বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে একসময় সংসারের আকাশে নেমে এসেছিল শোকের কালো মেঘ। তবে প্রতিকূলতার সেই অন্ধকারকে হার মানিয়ে নিজের শ্রম, মেধা আর অদম্য সাহসকে পুঁজি করে আজ সফল উদ্যোক্তার প্রতীক হয়ে উঠেছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার মাতাপুর গ্রামের তরুণ মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বাবু। মাত্র ১৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তার "মিনহাজুল পোল্ট্রি ফার্ম" আজ পরিণত হয়েছে আধুনিক ও বহুমুখী প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে, যা গ্রামবাংলার অসংখ্য তরুণের অনুপ্রেরণার উৎস।
জানা যায়, ২০০২ সালে এসএসসি পাসের পরই বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে মিনহাজুলের কাঁধে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে পেছনে ফেলে বড় বোনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধার নিয়ে ছোট্ট একটি পোল্ট্রি খামার শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যুক্ত করে ২০১৭ সালে তিনি এলাকায় প্রথম চারতলা আধুনিক পোল্ট্রি শেড নির্মাণ করেন। বর্তমানে পোল্ট্রির পাশাপাশি মৎস্য, হ্যাচিং ও মেডিসিন ব্যবসায় পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি। এখান থেকে এখন তার মাসিক আয় প্রায় তিন লাখ টাকা এবং বার্ষিক টার্নওভার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
খামারের দীর্ঘদিনের কর্মচারী রিমন হোসেন ও মিনহাজুলের স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, শূন্য থেকে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে মিনহাজুল শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান খোকা জানান, মিনহাজুলের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার তরুণ এখন খামার গড়তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি মিনহাজুল; ২০১৬ সালে বন্ধুদের সাথে মিলে হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তার কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে ৮০ জনেরও বেশি খামারি তৈরি হয়েছে, যারা বছরে প্রায় দুই লাখ সোনালী মুরগি উৎপাদনে ভূমিকা রাখছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা আবির হাসান বলেন, মিনহাজুল ইসলাম বাবু প্রমাণ করেছেন যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রাম থেকেই সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়া সম্ভব। তার এই গল্প তরুণদের জন্য এক জীবন্ত পাঠশালা।
আক্কেলপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, মিনহাজুল ইসলাম বাবু একজন আদর্শ ও সফল উদ্যোক্তা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তার এই অবদান গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব