গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাব রক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের দায়িত্ব পালন নিয়ে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘নাইটগার্ড থেকে হিসাবরক্ষক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংবাদটির বাস্তবতা যাচাই করতে সরেজমিনে অনুসন্ধান, সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পূর্ণ সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তিনি বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. সাইফুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা প্রহরী (নাইটগার্ড) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। সে সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অতিক্রম হওয়ার আশঙ্কায় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওই পদে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজের যোগ্যতাবলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০০৩ সালে পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে সরাসরি নিয়োগ লাভ করেন।
এরপর বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে বদলি সূত্রে তিনি গাজীপুরে যোগদান করেন। ২০২০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ের জারিকৃত আদেশ ও গঠিত কমিটির সুপারিশ ক্রমে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই বৈধ দাপ্তরিক আদেশের আলোকেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পাই। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে আমাকে হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ সরকারি নথি যাচাই না করেই আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম থাকলে কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিত।"
তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অভিযোগ ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি আমার সব হিসাব, ভাউচার ও আর্থিক নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা করে অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পায়নি। আমি সরকারি বিধি অনুযায়ী যথাসময়ে ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা ও হিসাব নিষ্পত্তি করেছি।"
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলেও আমার জানা মতে, সরকারি বিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মো. সাইফুল ইসলাম হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে কোনো অনিয়ম বা প্রমাণের সত্যতা পায়নি।"
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলামের চাকরিজীবনের ধারাবাহিকতা, সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল আদেশের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দাপ্তরিক আদেশ এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, তার চাকরিজীবনের অগ্রগতি সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই হয়েছে এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটিও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব