প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম (ভিজিট : )

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করানোর নিশ্চয়তার প্রলোভনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন গোপনে চলা এই ভয়ংকর অর্থ বাণিজ্য অবশেষে ফাঁস হয়ে গেল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অভিযুক্ত অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই ঘটনায় নৈশ প্রহরী শামীম মিয়াকে শোকজ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ‘পাশের গ্যারান্টি’ সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ভেতরে গড়ে ওঠে একটি গোপন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট টার্গেট করত এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। তাদের দেওয়া হত প্রলোভন- খাতায় কিছু না লিখলেও সমস্যা নেই, টেস্টে পাশ নিশ্চিত, আর ফরম পূরণে থাকবে না কোনো বাধা।
প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, একের পর এক শিক্ষার্থী এই ফাঁদে পা দেয়। গোপনে শুরু হয় যোগাযোগ, তারপর দর-কষাকষি। কেউ দেয় ১০ হাজার, কেউ ২০ হাজার টাকা।
অভিযোগ উঠেছে অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হতো নৈশ প্রহরী শামীম মিয়ার কাছে। সেখানেই নির্ধারণ করা হতো টাকার অঙ্ক এবং দেওয়া হতো পাশ করানোর চূড়ান্ত আশ্বাস। পুরো বিষয়টি চলত গোপনে, যেন কেউ টের না পায়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর পুরো চিত্র সামনে চলে আসে। এরপরই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং নৈশ প্রহরী শামীম মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজকালের খবর/বিএস