
সিলেট নগরীতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। নির্ধারিত মাসিক কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে ৩-৪টি পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই আরও কয়েকটি পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পাম্প মালিকদের মতে, আগামী ১ এপ্রিল নতুন কোটায় সরবরাহ এলে আবার বিক্রি শুরু হবে। তবে এর মধ্যে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম মতবিরোধ। প্রশাসনের দাবি—সিলেটে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, বরং একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অন্যদিকে পাম্প মালিক ও ডিলারদের অভিযোগ—চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ পাওয়ায় প্রকৃত সংকট তৈরি হয়েছে।
এমন দ্বৈত বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পাম্পে অপ্রয়োজনীয় ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর ৩৮টি পেট্রোল পাম্পে দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স, নিবন্ধন ও হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, জ্বালানি তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। গুজব ও ভুল তথ্যের কারণে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, এতে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, ডিপো থেকে পাম্পে যাওয়ার পথে তেল চুরি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মজুদদারি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে পাম্পগুলোতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
নগরীর একাধিক পাম্প মালিক জানান, প্রয়োজনীয় ১০ হাজার লিটার তেলের বিপরীতে অনেক সময় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
সোবহানীঘাট এলাকার একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক শামসুজ্জামান তিতাস জানান, কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পাম্পে সব ধরনের জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
জ্বালানি সংগ্রহে ফুয়েল কার্ড সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও বাড়ছে। অনেক মোটরসাইকেল চালক এ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং কেউ কেউ অবৈধভাবে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটে কোনো ফুয়েল কার্ড চালু হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মাত্র।
জেলা প্রশাসকের দাবি, পাম্পগুলো অতিরিক্ত বিক্রি করায় মাসের কোটা আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত মজুদ বা অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিলেটে জ্বালানি তেল পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। একদিকে প্রশাসন সংকট অস্বীকার করছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বাস্তব ঘাটতির কথা বলছেন। এর মধ্যে সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে, আর নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা।
আজকালের খবর/বিএস