প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম (ভিজিট : )

নওগাঁর বদলগাছীতে মহসিন আলী নামে এক ব্যাক্তিকে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক ষড়যন্ত্রে ফাঁসানো মামলায় অভিযুক্ত ভুক্তভোগী মহসিন আলী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে।
থানা পুলিশ, স্থানীয় ও অভিযুক্ত ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার একদিন পূর্বে মহসিনের বড় ভাই জমিজমা বিষয়ে আদালতে মামলা ও বদলগাছী থানাতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঔই মাামলা ও অভিযোগের মূল সাক্ষী ছিলেন মহসিন আলী। মামলার পর দিন পুলিশ এসে মহসিনকে ধরে নিয়ে যায় এবং প্রতিবশীর (১২) বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। মহসিনের পরিবারের অভিযোগ জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসাতে শিশু ধর্ষণের মতো গুরুত্বর অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। সম্পর্ন পরিকল্পিতভাবে তাকে এই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশ কোন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করে তাকে গ্রেফতার করেছে।
এ ধরনের গুরুত্ব মামলায় তাদের পরিবারকে চরম সামাজিক ও মানসিক সংকটে ফেলেছে। অবিলম্বে তাকে জামিনে মুক্তির দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, জমিজমি নিয়ে একদিন আগে আমারা থানায় অভিযোগ করি। এই অভিযোগের একদিন পর আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে কোন তদন্ত ছাড়াই ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়। ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। যাদের সঙ্গে আমাদের জমিজমা নিয়ে দন্ড চলছে তাদের এক আত্বীয় পুলিশ সুপার। সেখানের ক্ষমতার দাপটে আমার স্বামীকে ধর্ষণের মতো মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। আমি আমার স্বামীর দ্রুত জামিনসহ উচ্চতর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।
স্থানীয় ভাগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উভয়ের প্রতিবেশী মরিয়ম, জোলেখা,মর্জিনা, আনোয়ারা, হাশেম,সুমনসহ একাধীক ব্যাক্তির সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান যে, আমরা একই গ্রামে বসবাস করি মহসিনকে কোন দিন কোন মেয়ে দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে দেখিন। তিনি একজন সম্ভান্ত ঘরের ছেলে। তার ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে। নাতি-নাতনি আছে। মোটেও তিনি ধর্ষণের মত এমন কাজে যুক্ত নয়। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলেই সব বেরিয়ে আসবে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে নির্দোষ মহসিনের মুক্তি দাবী করেন।
ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী ও ভিকটিমের ফুফু বন্যা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজি নাবালিকা মেয়ে। তাকে কৌশলে মহসিন তার গভীর নলকূপে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জমিজমা বিরোধী কোন সর্ম্পক নেই। আমি এই ধর্ষণের ন্যায় বিচার চাই। বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ) থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর