প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম (ভিজিট : )

সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহনারা পারভীন বকুল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাতক্ষীরার প্রতিনিধিত্বের দাবিতে জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে আইনি ঢাল হয়ে দাঁড়ানোয় তার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব সর্বোচ্চ ৭০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন।
দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে ওই মামলায় সসম্মানে খালাস লাভ পান।
এই দীর্ঘ দুঃসময়ে স্বামীর অনুপস্থিতিতে তালা, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিভাবক হয়ে দাঁড়ান শাহনারা পারভীন বকুল। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে আইনি লড়াই, সবখানেই তিনি দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার পরিচয় দেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নেতাকর্মীরা জানায়, বিগত ১৭ বছরে দলীয় নেতাকর্মীরা যখনই রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন, অ্যাডভোকেট বকুল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায়।হাজারো নেতাকর্মীকে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন, যেটি সাতক্ষীরার রাজনীতিতে এক বিরল ত্যাগের দৃষ্টান্ত।
সুবিধাবঞ্চিত নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তার ভূমিকা তাকে সাতক্ষীরার ‘নারী জাগরণের অগ্নিকন্যা’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
তালা উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী, কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা নাজনীন আক্তার কেয়া বলেন, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি জনপ্রতিনিধি শুন্য হয়ে গেছে। বিপুল এই নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পুরণ এবং তাদের সুখ দুঃখ দেখার জন্য একজন সংসদ সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে আমাদের প্রিয় নেত্রী এ্যাডভোকেট শাহানারা পারভীন বকুল ভাবী যোগ্য দাবিদার। আমাদের প্রত্যাশা বিএনপির চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমান সাতক্ষীরার তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন বলেন, শাহনারা পারভীন বকুল দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। রাজনৈতিক হয়রানি, মামলা-হামলা ও কারাবরণের সময় তিনি যে সাহস ও ত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন, তা বিরল। আমরা মনে করি, সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাতক্ষীরার নারী সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক ছকিনা বেগম বলেন, দলের কঠিন সময়ে তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো পাশে ছিলেন। আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই আমরা চাই, তাঁর এই ত্যাগ ও অবদান দল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করুক।
শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহিন ইসলাম বলেন, সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব কারাবন্দি থাকাকালে সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে শাহনারা পারভীন বকুল যে দক্ষতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা তাঁকে একটি গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্বে পরিণত করেছে। কাজেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাতক্ষীরার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে এবং নারী সমাজের অধিকার আদায়ে একটি শক্ত কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে প্রতিফলিত হবে।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট শাহনারা পারভীন বকুল বলেন,তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ আমাদের বাসায় এসে আমাকে অনুরোধ জানাচ্ছেন যেন আমি সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হই। তাদের এই ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
দল যদি আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে, তাহলে আমি সাতক্ষীরার উন্নয়ন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দাবি আদায়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।
শাহনারা পারভীন বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৯৬ সাল থেকে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ ২৮ বছরের আইন পেশায় একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে নারী অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় তার অবদান অনস্বীকার্য।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর