টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘ ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে নিহত হয়েছে শিশু হুজাইফা আফনান (১২)।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছি বিজ্র এলাকার কবরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
সকাল থেকেই হুজাইফার মরদেহ এক নজর দেখার জন্য কবরস্থানে ভিড় করেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। শিশুটিকে হারিয়ে পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জানাজার সময় মা–বাবার হৃদয়বিদারক আহাজারিতে উপস্থিত সবাই অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন।
হুজাইফা আফনান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং পরিবারের বড় সন্তান। পড়াশোনায় সে ছিল মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের। প্রতিবেশী ও স্বজনদের সঙ্গে ছিল অত্যন্ত মিশুক। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এর আগে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফার মৃত্যুর খবর পরিবারে পৌঁছায়। এতে তার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা বাবা জসিম উদ্দিন শোক সহ্য করতে না পেরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
হুজাইফার বাবা জসিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে শনিবার জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় সেখান থেকে ছোড়া একটি গুলিতে গুরুতর আহত হয় হুজাইফা। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। টানা ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার দিন লম্বাবিল এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা টেকনাফ–কক্সবাজার প্রধান সড়কের লম্বাবিল ও টেচ্ছি বিজ্র এলাকায় সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ করেন, ফলে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায়। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আজকালের খবর/বিএস