আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া–টেকনাফ চার আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, গণসংযোগ, মিছিল ও সভা–সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তবে এই সরব নির্বাচনী তৎপরতার আড়ালে সরেজমিনে বিভিন্ন পথসভায় কিছু উদ্বেগজনক বিষয়ও লক্ষ্য করা যায়। যার মধ্যে একাধিক মামলার আসামি ও কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বিভিন্ন প্রার্থীর পথসভা ও নির্বাচনী কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষ করে উখিয়া–টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন এলেই এসব চক্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এমন ধারণা স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত। এতে এসব অপরাধী চক্র নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে রাজনৈতিক নেতাদের পুঁজি করছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এমনকি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর, হ্নীলা, বাহারছড়া ও সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মসূচিতে এমন কিছু ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র ও চোরাচালান সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তি জনসমাগম বাড়ানো ও কর্মসূচি জোরদারে ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠে।
উখিয়া–টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এখানকার অনেক মানুষ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের এখন রাজনৈতিক ব্যানারে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এসব ব্যক্তির বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারছে না। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে, কারণ সর্বত্রই ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। এর ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা বলেন, সাধারণত দলীয় কর্মসূচিতে আগত প্রত্যেক ব্যক্তির অতীত যাচাই করা সব সময় সম্ভব হয় না। এত বড় দলে কতরকমের নেতাকর্মী রয়েছে তা আমাদের ধারণার বাইরে। তবে আমরা সর্বদা দলের পক্ষ থেকে অপরাধীদের কোনো ধরনের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া হয় না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের বরাতে বলা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সর্বশেষ সুষ্ঠু, অবাধ ও নির্ভীক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে অপরাধীরা রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়ার সুযোগ নিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই সীমান্ত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আজকালের খবর/বিএস