শনিবার ৪ এপ্রিল ২০২৬
শহীদ জিয়ার কণ্ঠে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৩৭)
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় নিরস্ত্র বাঙালি জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ তাদের উজ্জীবিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সহায়তা করে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১২টায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি। তেলিয়াপাড়া চা বাগানে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এবং মেজর জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্র হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাগানের বাংলোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তার ঘোষণার পর সেনাবাহিনী ও মুক্তিকামী জনতা যুদ্ধে অংশ নেয়।

শেখ মুজিবুর রহমান সে সময় পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান পরিবার রেখে যুদ্ধে যোগ দেন। 

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করেন এবং পরবর্তীতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এসবই স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস, যা অতীতে আড়াল করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‘বিএনপি সংস্কার চায় না’, এমন প্রচারণা ‘মিথ্যা’ দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেন। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করেন। ২০২২ সালে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় বর্তমান সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নাম অতীতে উচ্চারিত হয়নি। তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়ায় সেক্টর কমান্ডারদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি আওয়ামী লীগের বর্ণনায় প্রতিফলিত হয়নি।

অনুষ্ঠান শেষে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান এমপি, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ বৈঠককে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল নির্ধারণের প্রথম সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে ৪ এপ্রিল দিনটি স্থানীয়ভাবে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রয়ে গেছে।

আজকালের খবর/বিএস 







আরও খবর


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
কদমতলীতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার
ঝিনাইগাতীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
পঞ্চগড়ে শিক্ষকের শেষ কর্মদিবসে রাজকীয় বিদায়
অফিস ৯টা থেকে ৪টা, ৬টায় মার্কেট বন্ধ: মন্ত্রিসভায় গুচ্ছ সিদ্ধান্ত
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস আগামীকাল, সাজছে এফডিসি
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft