কক্সবাজারের রামু উপজেলায় খতিয়ানভুক্ত ও রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে হামলা, হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না—এমন হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের ভূতপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগীরা হলেন একই এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ ইসহাক, মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মোহাম্মদ ইউনুস।
তারা জানান, একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলম ও তার সহোদরদের কাছ থেকে আইনগতভাবে জমি ক্রয় করার পরও পুনরায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি বিক্রয়ের সময় বিক্রেতাদের সব পাওনা পরিশোধ করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হলেও সম্প্রতি মোহাম্মদ আলম ও তার সহযোগীরা নতুন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিকবার হামলার শিকার হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউনুস বলেন,“দুই বছর আগে আমরা আইন অনুযায়ী জমিটি কিনেছি। মোহাম্মদ আলম ও তার ভাই-বোনসহ মোট সাতজনের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি নিয়েছি। কিন্তু এখন তারা আবার ৫ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে বাড়ি করতে দেবে না—এমন হুমকি দিচ্ছে। থানায় অভিযোগ এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার হলেও তারা সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের হয়রানি করে যাচ্ছে।”
ইউনুসের ভাই মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, “রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর জমি বিক্রেতারা কীভাবে আবার টাকা দাবি করতে পারে? এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধে পাঁয়তারা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও পুনরায় চাঁদা দাবি করা অন্যায় ও আইনবিরোধী। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যদি এই ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে, শৃঙ্খলা রক্ষায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, “২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিল নম্বর ৩৮৭০ এবং সৃজিত বিএস খতিয়ান নম্বর ৪৯৩৯ অনুযায়ী মোহাম্মদ ইউনুস গংয়ের নামে ৪ দশমিক ৯২ পয়েন্ট জমি খতিয়ানভুক্ত হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিল নম্বর ১৮৩০ অনুযায়ী আরও ৭১ পয়েন্ট (২ কড়া ৫ পয়েন্ট) জমি ক্রয় করা হয়। দুই দলিল মিলিয়ে প্রায় ১৭ কড়া জমির বৈধ মালিক তারা।
আজকালের খবর / এমকে