
নওগাঁর বদলগাছীতে গুচ্ছগ্রামের খাল দখল করে জোরপূর্বক মাছ ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রামবাসিরা অধিকার থেকে বঞ্চিতের পাশাপাশি খালে হাস ও গরু ছাগল চড়ানো নিয়ে পরেছে চরম বিপাকে। অসহায় গুচ্ছবাাসীরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খালটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের বনগ্রাম গুচ্ছগ্রাম। গুচ্ছগ্রামটিতে ২৭০টি ঘরে ১৬০ পরিবারের বসবাস। গুচ্ছগ্রামটি গড়ে ওঠার পর হতে ১২ বছর যাবত চারিপাশের খাল ভোগদখল করে আসছেন সেখানে বসবাসরত হতদরিদ্র বাসিন্দারা। চলতি বছরে ঢলের পানিতে কচুরিপানা খালে ঢুকলে গুচ্ছগ্রামের সমিতি হতে ৫ হাজার টাকার কীটনাশক দিয়ে খালটি পরিস্কার করে মাছ ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু, হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাছ এনে ছেড়ে দিয়ে জোরপূর্বক খালটি দখল করে কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ফারুক হোসেন। এতে হতদরিদ্র গুচ্ছগ্রামবাসিরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি খালে হাস ও গরু-ছাগল চড়ানো নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। হতদরিদ্র অসহায় গুচ্ছগ্রামবাসীরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খালটি গুচ্ছবাসীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
গুচ্ছগ্রামবাসীদের সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা বিগত ১২ বছর ধরে এই খালে মাছ চাষ করে সকলে মিলে ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়ে আসতেছি। এবারও আমরা ৫ হাজার টাকার কীটনাশক কিনে খালের কচুরিপানা মারার জন্য দিয়েছি। পরে সকলে মিলে খালটি পরিষ্কার করেছি মাছ ছেড়ে দেওযার এজন্য। কিন্তু, হঠাৎ করে ফারুক মেম্বার এসে জোর জবরদস্তি করে মাছ ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের এখনো পর্যন্ত কিছু বলা হয় নাই। আমাদের দাবি এটি গরিবের হক, গরিবদের ফিরিয়ে দেয়া হোক।
সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন, আমরা এই খালটি গুচ্ছগ্রামের সকলে মিলেমিশে এ যাবত পর্যন্ত দখল করে খেয়ে আসতেছি। হঠাৎ করে ফারুক মেম্বার কাউকে না বলেই মাছ ছেড়ে দিয়েছে। ফারুক মেম্বারের ধানি জমি ২ শতাংশ খালটিতে থাকতে পারে, কিন্তু এজন্য সে ১০ বিঘা খাল দখল করে খেতে পারে না। এটি ভূমিহীনদের জায়গা, আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বানু ও সুমি আক্তার বলেন, এ যাবত খালটিতে আমরা মাছ চাষ করে খেতাম, হঠাৎ করে ফারুক মেম্বার এসে খালটি তার দাবি করে মাছ ছেড়ে দিয়েছে। আমরা গুচ্ছগ্রামবাসী, আমরা ভূমিহীন। এটি আমাদের জায়গা, আমরা ফিরে পেতে চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, গুচ্ছগ্রামটির ভিতরে আমার ও হাসান চৌধুরীর ৪১ শতাংশ জমি ঢুকে আছে। খালটি পূর্ব থেকেই আমার দখলে ছিল। খালের মধ্যে আমার জমি আছে, সেজন্য মাছ ছেড়েছি। তাতে জোর খাটানোর কি আছে। আমার জমিতে আমি মাছ ছাড়ব, এতে প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন আমি মনে করছি না।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, গুচ্ছগ্রামটি মূলত আমাদেরই জায়গা। তবে কাগজপত্র না দেখে মন্তব্য করতে পারছি না। গুচ্ছগ্রামের পক্ষ হতে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের খবর/ওআর