গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর মধ্যপাড়া এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর সংযোগ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাড়ির মাঝখান থেকে ইট অপসারণ করে দুই জমির মালিকের সীমানা ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রত্যাহার করে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বিছানো ইট এখনো অপসারণ না হওয়ায় একটি পরিবার চরম ভোগান্তিতে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া প্রধান সড়ক থেকে ফাহমিদার বাড়ি পর্যন্ত ৩৮০ ফুট দৈর্ঘ ও ৮ ফুট প্রশস্ত একটি সংযোগ কাঁচা সড়কে ইট বিছানোর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও)।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন খান।
স্থানীয়দের দাবি, কাগজে-কলমে অন্য একজন ঠিকাদারের নাম থাকলেও বাস্তবে কাজটি পরিচালনা করেন ওই ইউপি সদস্য। এছাড়া প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তা ফাহমিদার বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও তার বাড়ির সীমানা অতিক্রম করে উঠানের মাঝখান দিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৬০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এতে বাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং দুই পাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ফাহমিদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাড়ির মাঝখান থেকে ইট অপসারণ করে দুই জমির মালিকের সীমানা ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। সে সময় সিদ্ধান্ত হয়, ফাহমিদা ৫ ফুট এবং পাশের জমির মালিক ৩ ফুট জমি ছাড়বেন। এজন্য অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে পাশের জমির মালিক সীমানা দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেন। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজ বন্ধ করে দেন এবং ইউএনও অতিরিক্ত ২ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রত্যাহার করেন। কিন্তু ইউএনওর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাড়ির মাঝখানে নির্মিত ইট এখনো অপসারণ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ফাহমিদা বলেন, আমার বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় দুই পাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএনও তদন্ত করে ইট সরিয়ে সীমানা দিয়ে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো আগের অবস্থাতেই ইট পড়ে আছে।
ফারজানা হক রিনি বলেন, আমাদের অজান্তে বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশের পরও রাস্তা অপসারণ করা হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১০ শতাংশ কমিশন এবং অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে সীমানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার বা এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, আমি ইট বিছাইনি, ঠিকাদার কাজ করেছে। তবে ঠিকাদারের নাম জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বাড়ির মাঝখান থেকে ইট সরিয়ে দুই জমির মালিকের সীমানা দিয়ে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু পাশের জমির মালিক বাধা দেওয়ায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য অতিরিক্ত ২ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির মাঝখানে নির্মিত ইট অপসারণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আজকালের খবর/বিএস