পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শংকর ভূষণ মিত্র ও সঞ্জীব কর্মকারসহ একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের দেওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে বাঁচতে এবং এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগী।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মঠবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মঠবাড়িয়ায় বসবাসরত প্রতারক চক্রের মূল হোতা সঞ্জীব কর্মকার (পিতা মৃত সুধাংশু কর্মকার), শংকর ভূষণ মিত্র (পিতা মৃত মনোহর মিত্র), অসীম বাবু (পিতা অবনী ভূষণ) সহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মঠবাড়িয়া ও আশপাশের সাধারণ মানুষের নামে বেনামে ভুয়া চেকের পাতা তৈরি করছেন। পরবর্তীতে সেই ভুয়া চেক দেখিয়ে যশোর, ফরিদপুর, পঞ্চগড়সহ দেশের দূর-দূরান্তের জেলা থেকে প্রথমে লিগ্যাল নোটিশ ও পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁত পাতছেন।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, যেসব চেকের পাতা দিয়ে মামলা করা হয়েছে, সেগুলো আদতে তাদের নয়। এমনকি ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা জীবনে কোনোদিন ব্যাংকেই যাননি। বিষয়টি নিয়ে প্রতারক চক্রের কোনো সদস্যের সাথে স্থানীয়ভাবে বিরোধ হলে মঠবাড়িয়া আদালতে মামলা না করে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য দূরবর্তী জেলার আদালতে মামলা করা হয়। ইতিমধ্যে অনেক ভুক্তভোগী যশোরসহ বিভিন্ন দূরবর্তী আদালতে গিয়ে হাজিরা দিয়ে চরম আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক আজকের সময়ের বার্তার স্টাফ রিপোর্টার মো. নাসির উদ্দিন এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রোজীনা আক্তারের নামেও উকিল নোটিশ পাঠায় এই চক্র। তবে রহস্যজনকভাবে সেই উকিল নোটিশের খামের ভেতরে কোনো কাগজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা মঠবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৫৭৩, তারিখ: ২৭/০৬/২৬ ইং) করেছেন।
এই ভয়ংকর প্রতারক চক্রের হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে এবং এর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব