পটুয়াখালীর দুমকিতে দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ঐতিহাসিক কাটাখালী খাল পুনরুদ্ধারে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খালের কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলার শিকদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় খালের দুই পাড়ের অর্ধশতাধিক বাসিন্দা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন।
স্থানীয়দের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে খালের অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার আশা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক বছর ধরে খালটি ঘন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে চরম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন, খলিল শিকদার ও হারুন অর রশিদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে খালটি পরিষ্কারের জন্য বিভিন্ন মহলে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমরা এলাকাবাসী নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খালটি পুরোপুরি পরিষ্কার হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্থানীয় কৃষিকাজে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
উদ্যোক্তারা জানান, খালের পুরো অংশ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রতি সপ্তাহে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে এই স্বেচ্ছাশ্রমের পাশাপাশি তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে খালটি খনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে এ ধরনের পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম অন্য এলাকার মানুষদেরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সুধীসমাজ।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব