নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামে জমি বন্ধকের পাওনা ২ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় আক্রান্ত গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং একই দিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুই দফায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি উত্তর তিতপাড়া গ্রামে তাণ্ডব চালায়। এ সময় অন্তত ৪টি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দক্ষিণ তিতপাড়া বড় জুম্মা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (২৭) ও আসাদুল ইসলাম (৩৩)-এর নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—মৃত মমতাজ আলীর ছেলে হবিবর রহমান ও তইবার রহমান, মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আলিনুর রহমান এবং মৃত নুর ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শী মকফর আলী, মতিয়ার রহমান ও মেহের বানু অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রতিবেশী শেফালী বেগম জানান, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন লাঠি, ছোরা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা করে এবং বাধা দিতে গেলে নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী আলিনুর রহমানের তিন স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেঘনা (১৭), ইশা (১৪) ও ইফা মনি (১২) জানায়, গভীর রাতে সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। চিৎকার করলে তাদের ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই হামলায় মর্জিনা বেগম (৫০), সাহেরা বেগম (৪০) ও হবিবর রহমানসহ (৩৫) অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ৩ জনকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ডিমলা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব