সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য কাজী মৌসুমী এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ এই আদেশ দেন। উচ্চ আদালত থেকে প্রাপ্ত আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমী। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীনে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় কাজী মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিন এজাহারনামীয় আসামি।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গোপনে উৎসাহিত করা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে রয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের শর্ত মেনে কাজী মৌসুমী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে উপস্থিত হয়েছেন। সব নিয়ম মেনেই জামিনের আবেদন করা হয়েছিল, তবে আদালত তা মঞ্জুর করেননি। আসামিপক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ. হাসান প্রধানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব