দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার মতিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে এলাকার নারী-পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ দাবি করেন। বক্তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং স্যেচ্ছাসারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের দুটি পুকুর ইজারার ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয়ের ভেতরে মাদকসেবীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনেন তারা।সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য কোনো টিউবওয়েল বা শৌচাগারে পানির ব্যবস্থা নেই। শ্রেণিকক্ষে ময়লা-আবর্জনার গন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কমন রুমে বসার জায়গা নেই।
প্রধান শিক্ষকের রুমে এসি ও একাধিক ফ্যান থাকলেও শিক্ষার্থীদের কক্ষের ফ্যানগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বিনাইল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, "প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়গুলো গুরুত্বর। আমি এলাকাবাসীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।"
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার মতিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পুকুর ইজারার টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে এবং নিয়ম মেনেই বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে।"
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব