কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই বংশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর এলাকায় ‘নবাবের বাড়ি’ এবং ‘ফর্সার বাড়ি’ বংশের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২৩ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে টেঁটাবিদ্ধসহ গুরুতর আহত তিনজনকে—মিজান (৩৬), শরীফ মিয়া (১৯) এবং চান মিয়াকে (৪০)—উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল করিম জানান, আহতদের অনেকের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নবাবের বাড়ির বংশের সাথে ফর্সার বাড়ির বংশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৩ মে বিকেলে ফর্সার বাড়ির আয়তুল মিয়ার আম গাছে ঢিল ছোঁড়ে নবাবের বাড়ির বিজয় ও শাওনসহ কয়েকজন কিশোর। এতে বাধা দেন আয়তুল মিয়ার ছেলে মোখলেস। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে গত দুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে উভয় পক্ষ দা, বল্লম, টেঁটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বধূনগর এলাকা।
নবাবের বাড়ির তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, "ফর্সার বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।"
অন্যদিকে ফর্সার বাড়ির ফুল মিয়া বলেন, "তারা আমাদের আম চুরি করার পর উল্টো আমাদের বাড়ির যুবকদের মারধর করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।" খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, "আম পাড়ার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এই সংঘর্ষ। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। অভিযোগ না পেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা করা হবে।"
তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, "ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়াটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক অবক্ষয় এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সচেতনতার অভাবে এসব তুচ্ছ বিষয় বড় সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।"বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আজকালের খবর/কাওছার