চোখ আছে কিন্তু পৃথিবী দেখার আলো নেই, পেট আছে কিন্তু ক্ষুধা মেটানোর অন্ন নেই। এক জোড়া অন্ধ চোখ নিয়ে নিঃশব্দে কেঁদে চলেছেন এক নারী, যাঁর কান্নার শব্দে আকাশের বাতাস ভারি হলেও নিষ্ঠুর বাস্তবতার কাছে তা যেন কেবলই হাহাকার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি একাকীত্বের এক অতল গহ্বরে বন্দি। নাম তাঁর সাজেদা খাতুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামে একাকী দিন কাটান এই অসহায় নারী। বাবা মৃত বানেজ মিস্ত্রি। মা-বাবার আদরের ছায়া হারিয়েছেন অনেক আগেই, এরপর নিয়তি কেড়ে নিয়েছে চোখের জ্যোতিটুকুও। সাজেদা খাতুনের কাছে দিন আর রাতের পার্থক্য এখন শুধু একরাশ গাঢ় অন্ধকার। নিজের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই, নেই ভরসা করার মতো কোনো আপনজন।
যখন ক্ষুধার জ্বালা তীব্র হয়, তখন অন্ধ হাত দুটো কেবল হাতড়ে ফেরে একটু খাবারের আশায়। তাঁর জীবনে এখন কোনো রঙিন স্বপ্ন নেই, আছে শুধু একবেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য অন্তহীন অপেক্ষা। গ্রামের মানুষের সামান্য দয়ার ওপর ভর করে চলে সাজেদার জীবন। কোনোদিন খাবার জোটে, আবার কোনোদিন জলস্পর্শ না করেই কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত। ক্ষুধার যন্ত্রণা বড় কঠিন হলেও সাজেদা মুখ ফুটে কারো কাছে কিছু বলতে পারেন না।
আত্মসম্মান আর সংকোচ তাঁর কষ্টের কথাগুলোকে গলার কাছে আটকে দেয়। তাঁর ফ্যাকাশে মুখ আর মলিন চোখের কোণগুলোই বলে দেয়, কতটা অবহেলা আর বঞ্চনায় কাটছে এই নিভৃতচারী মানুষটির দিনকাল। সাজেদা খাতুনের এই নিঃশব্দ চোখের পানি আজ আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁর জন্য পৃথিবীটা আজ বড্ড নিস্তব্ধ আর নিষ্ঠুর।
স্থানীয়দের মতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সামান্য একটু সহমর্মিতা এবং স্থায়ী সহযোগিতা বদলে দিতে পারে তাঁর এই অন্ধকার জীবন। সাজেদার মতো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটি স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সরকার ও সামর্থ্যবানরা কি এগিয়ে আসবেন?—এটাই এখন গ্রামবাসীর বড় দাবি।
আজকালের খবর/কাওছার