মালয়েশিয়ায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশি গবেষক অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান অনন্য এক মাইলফলক অর্জন করেছেন। তিনি একযোগে দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেছেন “ইনেইবলিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজিস” খাতে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শীর্ষ ১০ গবেষকের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরের লে কাদেরি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দেশের গবেষণা খাতে অবদান রাখা সেরা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এ আয়োজন করা হয়, যা প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড. সাইদুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ড. সাইদুর রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার এই অর্জনের পেছনে অবদান রাখা সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সহকর্মী, গবেষণা দল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত “ইনেইবলিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজিস” খাতটি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত উপকরণ, ডেটা বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। এ খাতে শীর্ষস্থান অর্জন গবেষকের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি বহন করে।
এদিকে, মালয়েশিয়ার শীর্ষ ১০ গবেষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াও একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশটির গবেষণা অঙ্গনে তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সাফল্য তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণাকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার গবেষকদের সাফল্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অবদানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এই অর্জন মালয়েশিয়ার গবেষণা খাতের অগ্রগতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
আজকালের খবর/ এমকে