পশ্চিমবঙ্গে টানটান উত্তেজনার মধ্যে শুরু হলো বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট। বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এ দফায় রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে।
চলতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। তবে বেশিরভাগ আসনেই মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে।
দ্বিতীয় দফায় মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (ভবানীপুর), কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর), ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর), চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম), শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), সুজিত বসু (বিধাননগর), রথীন ঘোষ (মধ্যমগ্রাম) প্রমুখ।
অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), রুদ্রনীল ঘোষ (শ্যামপুর), পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ), শর্বরী মুখার্জীসহ (যাদবপুর) আরও অনেকে। এ দফায় ভাঙড় আসনে পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর ভাগ্যও নির্ধারণ হবে।
নির্বাচন উপলক্ষে রাজ্যের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যে রেকর্ড ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় ৫০৭ কোম্পানি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটার প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৯২ জন। এ দফায় ৪১ হাজার ১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতেও ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
আজকালের খবর/ এমকে