মালয়েশিয়ার সারাওয়াক অঙ্গরাজ্যের প্রিমিয়ার আবাং জোহারি ওপেং স্থানীয় তেল ও গ্যাস খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বদলে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
দেশটির জাতীয় দৈনিক দ্যা সান ডেইলীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ২৫ এপ্রিল, মিরিতে এক কমিউনিটি নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিমিয়ার বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোলিয়াম সারাওয়াক বেরহাদ (পেট্রোস)-এর প্রকল্পে স্থানীয় কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি শ্রমিক আনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবি আসন্ন সারাওয়াক রাজ্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি। গাবুঙ্গান পার্টি সারাওয়াক (জিপিএস)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন আবাং জোহারি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী-এর সঙ্গে তার বৈঠককে কেন্দ্র করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন,আমাদের বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য শ্রমিক নিয়োগের প্রসঙ্গও ছিল। তবে পেট্রোস প্রকল্পে ১,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে আমি সম্মতি দিয়েছি এটি সম্পূর্ণ অসত্য।
এছাড়া সারাওয়াক শ্রম বিভাগ থেকেও এ ধরনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানান প্রিমিয়ার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেট্রোসের প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় জনশক্তিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বিদেশি শ্রমিক দিয়ে স্থানীয়দের প্রতিস্থাপনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
যদিও তেল ও গ্যাস খাতে স্থানীয়দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সারাওয়াকের অন্যান্য খাত বিশেষ করে নির্মাণ ও বাগান শিল্প গুরুতর শ্রমিক সংকটে ভুগছে।
সারাওয়াক পাবলিক কমিউনিকেশন্স ইউনিট (ইউকাস)-এর তথ্যমতে, শূন্যপদ পূরণের জন্য সারাওয়াক ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে সারাওয়াকে বিদেশি শ্রমিকের প্রধান উৎস ইন্দোনেশিয়া, যারা মূলত গৃহস্থালি কাজ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে নিয়োজিত। তবুও শ্রমিকের ঘাটতি রয়ে গেছে।
গত বছর খাদ্য শিল্প, পণ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী স্টিফেন রুন্ডি উতোম সতর্ক করে বলেন, তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সারাওয়াক প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১৬.২ লাখ হেক্টর তেল পাম বাগান এবং ৮৫টি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় ফল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য।
সারাওয়াক সরকার একদিকে তেল ও গ্যাস খাতে স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষা করতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে শ্রমঘাটতি পূরণে অন্যান্য খাতে বিদেশি শ্রমিক আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রিমিয়ার আবাং জোহারি।
আজকালের খবর/ এমকে