জার্মানির বাণিজ্যিক নগরী ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ মেলা 'টেক্সপ্রোসেস ২০২৬' আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে। গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া চার দিনের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের সর্বাধুনিক মেশিনারি, অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন, এআইভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা, কাটিং, সেলাই, এমব্রয়ডারি ও স্মার্ট ফ্যাক্টরি প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।
একই ভেন্যু মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'টেকটেক্সটাইল ২০২৬' ; যেখানে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নন-ওভেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেব্রিক ও ভবিষ্যৎ টেক্সটাইল প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, টেকটেক্সটাইল এবং টেক্সপ্রোসেস মিলিয়ে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন। শুধু টেকটেক্সটাইল-এই রয়েছে ১ হাজার ৫০০ প্রদর্শক।
বিশ্বের ৪৯টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করছে। এতে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, জাপানসহ বিশ্বের বড় বড় শিল্পোন্নত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ হলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের উপস্থিতি খুবই সীমিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি টেক্সটাইল মিল, গার্মেন্টস গ্রুপ, স্পিনিং, ডাইং, এক্সেসরিজ ও মেশিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অংশ নেওয়া উচিত ছিল।
কারণ এই মেলাতেই নির্ধারিত হয় আগামী দিনের:
• কারখানার নতুন প্রযুক্তি
• উৎপাদন খরচ কমানোর সমাধান
• শ্রমনির্ভরতা কমিয়ে অটোমেশন
• পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা
• আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীর নতুন সংযোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় পরিসরে অংশ নিলে বাংলাদেশ পেতে পারতো:
১. কম খরচে আধুনিক মেশিনারি
ইউরোপ ও এশিয়ার সরাসরি প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে চুক্তি।
২. উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি
এআই ও অটোমেশনের মাধ্যমে কম সময়ে বেশি উৎপাদন।
৩. নতুন রপ্তানি বাজার
ইউরোপের টেকনিক্যাল টেক্সটাইল বাজারে প্রবেশ।
৪. বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ
বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ইউনিট স্থাপনে আগ্রহী হতে পারতো।
বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য প্রস্তাব:
১. আগামী মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিশ্চিত করা
২. অন্তত ৩০-৫০ কোম্পানির প্রতিনিধি দল পাঠানো
৩. জার্মানিতে বিটুবি ম্যাচমেকিং আয়োজন
৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তিতে জোর দেওয়া
৫. মেড ইন বাংলাদেশ টেক্সটাইল টেকনোলজি ব্র্যান্ডিং করা
ফ্রাঙ্কফুর্টের এই মেলা শুধু প্রদর্শনী নয়—এটি ভবিষ্যৎ শিল্প বিপ্লবের দরজা। বাংলাদেশ যদি সময়মতো বড় পরিসরে অংশ নিতে না পারে, তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
আজ শুক্রবার মেলা শেষ হচ্ছে. কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এখনই শুরু করা উচিত আগামী বছরের প্রস্তুতি।
আজকালের খবর/ এমকে