জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিমলা উপজেলায় শুরু হয়েছে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন নিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালক এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে ইতোমধ্যে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়। গত ১৯ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়।
ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিন সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ মোটরসাইকেল চালকদের তালিকাভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফুয়েল কার্ডধারীরা জেলার যেকোনো ফিলিং স্টেশন থেকে নির্ধারিত মাসিক পরিমাণ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রশাসনের মতে, এতে জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে, অনিয়ম ও অপচয় কমবে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পৃথক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত মজুত ও কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে তেলের অপচয় কমবে এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি হ্রাস পাবে।
ফুয়েল কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে চালকদের ভিড় দেখা যায়। স্বচ্ছভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লে পর্যায়ক্রমে আরও ফুয়েল কার্ড ইস্যু করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজকালের খবর/ এমকে