গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এ ঘটনা পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে উদ্যান কর্তৃপক্ষ ফটকের সামনে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে হাতির ভাস্কর্যসংবলিত প্রবেশপথে জমে থাকা এই বর্জ্য যানবাহনের চাপের কারণে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এতে পার্কে স্বাভাবিক প্রবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি যান চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর সঙ্গে করপোরেশনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বনাঞ্চলের ভেতরে বর্জ্য ভাগাড় নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাদের নিজস্বভাবে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের সক্ষমতা নেই। যেহেতু এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। তাই বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বও তাদেরই নেওয়া উচিত। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলে এভাবে বর্জ্য ফেলা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়। এটি জীববৈচিত্র্য, বনজ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশগত সংকটে রূপ নিতে পারে।
আজকালের খবর/ এমকে