নিয়মিত রেলগাড়ি না চলায় দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম এস আর ভি স্টেশনের আশপাশ এলাকা কিছু অসাধু মাদক ও চোরা কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। এজন্য সংঘটিত হচ্ছে অপরাধ।
সূত্র মতে, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে এস আর ভি স্টেশনের লোকবল না থাকায় একশ্রেণির লোক বিভিন্ন জাহাজ থেকে চোরাই যন্ত্রাংশ তেলের ড্রামে করে এনে রাতের অন্ধকারে এখানে খালাস করে বর্জ্য ফেলে রেখে যাচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলের পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব হয়না। একশ্রেনীর অসাধু রেল নিরাপত্তা কর্মীর যোগসাজশে এলাকাটি অপরাধ জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উৎস ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে রেল বিধিমালা অনুসরণ করে প্রায় ৯ মাসের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে চলমান রাজস্ব ব্যতিরেকে বর্তমান নতুন রাজস্ব নীতিমালা অনুসরন করে (আগে ছিল স্কয়ার ফিট ৬০টাকা নতুন নীতিমালায় ২৫০টাকা) অনুসরণ করে অগ্রিম একবছর সহ শর্তে উল্লেখিত কোম্পানিকে ৪৫০০ স্কয়ারফিট যায়গা অস্থায়ী ভিত্তিতে গোডাউন করার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কোম্পানিটি সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সমস্ত রাজস্ব পরিশোধ করে। কিন্তু দখলে রাখা একটি অসাধু চক্র কোম্পানির সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে এবং মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এস আর ভি স্টেশনের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী পংকজ দেবনাথ বলেন, আমরা মাত্র দুইজন নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করি। বিভিন্ন সময়ে এসব অবৈধ কর্মকান্ডের বিরোধিতা করলে আামদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং শারীরিক লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। বিভিন্ন সময়ে পত্র মারফতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা আছে, এই রেল সীমানায় বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ নেই।
এদিকে বৈধ লিজ গ্রহীতা উৎস ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক এস এম মুসাব্বির জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২৮ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দিয়েছি। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ আমাকে এখনো বুঝিয়ে দেয়নি।
অন্যদিকে আমাকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হুকমি দিচ্ছে জায়গাটা যেন তাদের দিয়ে দেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় জায়গাটি নিয়েছি কিন্তু ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা এখনো সেটি দখল করে আছে। আর এতে করে আমি ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
তিনি জমিটি বুঝিয়ে দিতে সরকার ও রেল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি অবৈধ সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে তার প্রতিষ্ঠান রক্ষার প্রতিকার চেয়েছেন।
অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খরবের দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, অবৈধ দখলদারের জন্য সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। উল্লেখিত জমিটি সম্পূর্ণ বেদখল বিধায় জমিটি রক্ষনাবেক্ষনের স্বার্থে নিয়মনীতি অনুসরণ করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে জমিটি অস্থায়ী বরাদ্দ দেয়া হয়। শীঘ্রই তারা উচ্ছেদ অভিযানে যাবে প্রকৃত লিজ গ্রহীতাকে বুঝিয়ে দেবে প্রতিবাদে তাই উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রেলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা অবৈধ দখলদারদের বিগত ১০ মার্চ একটি নোটিশ জারি করে সেখানে বিগত ৩ মার্চ তারিখের মধ্যে দখল মুক্ত করে দেয়ার জন্যে উল্লেখ রয়েছে।
আজকালের খবর/ এমকে