
আশির দশক আর নব্বইয়ের প্রারম্ভে বলিউডের রঙিন পর্দায় একাধিক সুপারস্টার একসাথে হাজির হতেন। সেই যুগের অন্যতম চমক ছিল প্রয়াগ রাজ এবং অমিতাভ বচ্চনের জুটি। ‘আমার আকবার অ্যান্থনি’, ‘নসিব’ আর ‘কুলি’ এই সব হিট ছবির পর তারা ফের একত্রিত হন আরেকটি ব্লকবাস্টার সিনেমার জন্য, যার নাম ছিল ‘গেরাফতার’ (১৯৮৫)।
গেরাফতার শুধু অমিতাভ বচ্চনই নয়, রাজনীতিক না, বরং তামিল ইন্ডাস্ট্রির দুই কিংবদন্তী রাজনীকান্ত এবং কমল হাসানকেও একসাথে পর্দায় এনেছিল। তবে এই ত্রয়ী একসাথে হওয়ার পেছনে ছিল প্রয়াগ রাজের অদম্য উদ্যোগ।
সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে প্রয়াগ জানিয়েছেন, অমিতাভ প্রথমে মাত্র একটি অতিথি চরিত্র করতে রাজি ছিলেন। কিন্তু প্রয়াগের জেদ আর বায়নার কাছে হার মেনে তিনি দশ দিনের জন্য পুরো ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হন।
প্রয়াগ বলেন, ‘সেই সময় অমিতাভ বচ্চনের জন্য দশ দিন মানে পুরো ছবি প্রায় শেষ করা। রাজনীকান্তও অতিথি চরিত্রে এসেছিলেন, শুধু অমিতাভের জন্যই।’
তবে ছবির মূল নায়ক কমল হাসান একটু সন্দিহান হয়ে যান। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমার কি হবে? এই ছবিতে আমার কাজ কি?’ প্রয়াগ তখন গল্পের প্লটটিকে এমনভাবে সাজান যে কমল হাসানই থাকলেন নায়ক হিসেবে, আর অমিতাভ বচ্চন এবং রজনীকান্ত হলেন নায়কের ভাই ও বন্ধুর ভূমিকায়।
চিত্রনাট্য আর অভিনয়ের এই সমন্বয় ফলপ্রসূ হয়। মাদ্রাজের সিনেমা হলে মুক্তির দিন দর্শকরা একে একে যখন এই সুপারস্টারদের দেখেন, তখন টাকা, বেলুন, তালি আর সিটি বাজিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
গেরাফতার-এর অন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন কাদের খান ও রঞ্জিত। ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১.৭৮ কোটি টাকা, আর বিশ্বজুড়ে আয় হয়েছিল প্রায় ৭.৫০ কোটি। অর্থাৎ, নি:সন্দেহে এটি সেই যুগের একটি বড় সফলতা ছিল।
সেটি শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি ছিল বলিউডের স্বপ্নময় আড্ডার মঞ্চ, যেখানে তিন মহারথী অমিতাভ, রজনীকান্ত আর কমল একসাথে পর্দায় হাজির হয়ে দর্শকের মন জয় করেছিলেন।
আজকালের খবর/আতে