গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে থাকার কথা ছিল ভূমিহীন মানুষের নতুন জীবনের গল্প। কিন্তু এখানে সেই চিত্র অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। বিভিন্ন প্রকল্পে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘর ফাঁকা পড়ে আছে, অনেক দরজায় ঝুলছে তালা। কোথাও বারান্দা ব্যবহার হচ্ছে গবাদিপশু রাখার কাজে, কোথাও জমেছে লাকড়ি ও আবর্জনা। ব্যবহার না হওয়ায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকারি এই স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে উপকারভোগী নির্ধারণ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাদের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে যাদের ঘর দেওয়া হয়েছে, তাদের একটি অংশ সেখানে বসবাস করছেন না। এতে সরকারের এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলায় তিন ধাপে দুই শতক জমিসহ পাকা ঘর পেয়েছে ২৮০টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া, তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালি ও সাইটালিয়া, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের মালিপাড়া ও নিমুরিয়া, বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর এবং পৌর এলাকার চন্নাপাড়ায় অবস্থিত।
সরেজমিনে নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ১৪২টি পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিছু পরিবার বসবাস করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অনেক উপকারভোগী বরাদ্দ পাওয়ার পরই অন্যত্র চলে গেছেন। এতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে সাইটালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। ২৩ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অন্তত ৯ জন ঘরে তালা দিয়ে রেখেছেন। উদ্বোধনের পর থেকেই তারা সেখানে নিয়মিত বসবাস করছেন না, ফলে ঘরগুলো অযত্নে পড়ে রয়েছে।
নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, শুরুতে বরাদ্দ পাওয়া বেশিরভাগ পরিবারই সেখানে অবস্থান করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে বেশ কিছু ঘর দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তার দাবি, উপকারভোগী নির্ধারণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
চন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বারেক মিয়া বলেন, কিছু উপকারভোগী নিজেরা বসবাস না করে বরাদ্দ পাওয়া ঘর অন্যের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত গৃহহীনরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকৃত ভূমিহীনদের একটি অংশ তালিকার বাইরে থেকে গেছে। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে এমন অনেক ব্যক্তি ঘর পেয়েছেন, যাদের আগে থেকেই নিজস্ব বসতভিটা রয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে খালি ঘরগুলো প্রকৃত গৃহহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর / রাশেদুল মিলন