গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের ওপর পরিকল্পিত হামলা, ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানির অভিযোগে খাদিজা খাতুন নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) ভোর রাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ মার্চ সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার ওপর শারীরিক আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়।
গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১১ মার্চের একটি কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৪ মার্চ এই হামলা চালানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।
তবে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ১১ মার্চ তিনি সকাল থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অংশ নেন। ওইদিন তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সচিবালয়ের দুইজন সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।
তিনি বলেন, সেদিনের প্রতিটি স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ছবি-তথ্য যাচাই করলে স্পষ্ট হবে যে আমি গাজীপুরে ছিলাম না। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় খাদিজা খাতুনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন-হান্নান মোল্লা, মো. লতিফ সরকার টুটুল এবং নজরুল ইসলাম আজহার।
সাংবাদিক আসাদ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ গাজীপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও অপপ্রচার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের পক্ষ থেকে হুমকি ও পাল্টা হয়রানিমূলক মামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উজ্জল জানান, প্রধান অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত,সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।