পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে সরকারি খালের নির্ধারিত এলাইনমেন্ট (নকশা) পরিবর্তন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মো. আবুল কালাম মুন্সী।
অভিযোগে বলা হয়, খালের জমির এক অবৈধ দখলদার প্রভাবশালী পরিবার ঠিকাদারের যোগসাজশে সরকারি খালের অংশ বাদ দিয়ে অন্যের রেকর্ডীয় জমির ওপর দিয়ে খাল খননের চেষ্টা করছে। এতে বাধা দিলে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন। পটুয়াখালীর চরগরবদী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম মুন্সী জানান, এসএ ৩২১ ও ৩২৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৬৩৪ শতাংশ জমি তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। এই জমির পাশেই সরকারি খালের অবস্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে সেটি খননের জন্য টেন্ডারও হয়েছে। কিন্তু সরকারি সীমানা বাদ দিয়ে তাঁদের ফসলি জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক খাল কাটার পাঁয়তারা চলছে।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম মুন্সী বলেন, “আমরা খাল খননের বিরোধী নই। সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে মূল খালের অংশে খনন কাজ করা হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আমাদের পৈতৃক জমিতে খাল খনন বন্ধ করতে হবে।” এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত এসও মুহাইমিনুল ইসলাম আবির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত কারও রেকর্ডীয় জমিতে খনন করা হয়নি। আপত্তির জায়গা বাদ রেখে অপর প্রান্ত থেকে কাজ চলছে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. মিলন মিয়া জানান, তিনি উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য দুমকি উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাতকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব