
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা। তাদের দাবি, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ব্রির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, এসব অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু সংবাদ সম্পূর্ণ বানোয়াট, মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা ব্রির অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা মাত্র। এসব সংবাদের সঙ্গে কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, যারা চাকরিকালীন সময়েও শৃঙ্খলাভঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় থাকলেও পরবর্তীতে বিতর্কিতভাবে পুনর্বহাল হয়ে আবারও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন এবং বর্তমানে বেআইনিভাবে বকেয়া সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীর কিছু সদস্য নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে সংগঠন গঠন, পদ-পদবি দখল এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এমনকি ওই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গাজীপুরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলেও জানা যায়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একটি যানবাহন শাখার কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মিত বেতন গ্রহণ এবং অনুমতি ছাড়াই বহির্ভূত ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে, যা তদন্তসাপেক্ষে যাচাই করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত প্রচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব আচরণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নীতিমালার পরিপন্থী এবং প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে যে, কুচক্রী মহলটি বোর্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পেশিশক্তির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে পদোন্নতি বা পদায়নের চেষ্টা করছে এবং আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি কর্মচারীদের ব্যবহার করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ব্রির অভ্যন্তরীণ একটি অংশের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে, যার ফলে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল হ্রাস পাচ্ছে এবং কাজের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। অতীতের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্রির নিয়োগ প্রক্রিয়া একাধিক উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকেন। সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষাগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে সর্বমহলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এমনকি ভুয়া প্রার্থী শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ঘটনাও ঘটেছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কিছু পদে প্রার্থী যোগদান না করা সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক বিষয় এবং বিধি অনুযায়ী অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
সবশেষে, ব্রির সচেতন মহল মনে করছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম রক্ষায় অপপ্রচার ও কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা দ্রুত দমন করা জরুরি। তারা প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর