ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মৃত লাল মিয়া মাস্টারের পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠে এলাকার মো. রাজ্জাক মিয়ার ছেলে আবদুল আওয়ালের বিরুদ্ধে। তার নির্দেশে এলাকার রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ওই পরিবারটিকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন।।
রবিবার (২৯ মার্চ) মৃত লাল মিয়া মাষ্টারের ছেলে হারুনুর রশিদ, প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম,কবির হোসেন, কামরুল হোসেন ও জামাল হোসেন সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান,তারা কেউ গ্রামের বাড়িতে থাকেন না। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তার দেশ বিদেশে থাকা ভাইয়েরা গ্রামের বাড়িতে আসেন।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী আবদুল আওয়ালের মদতেই এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ গত শনিবার বিকেলে রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ও আউয়াল গ্রুপের লোকজন মিলে জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ির মিজানুর রহমান (৪০), জিয়াউর রহমান (৪৫) ও আক্তার হোসেন (৪০)-কে মারধর করে। এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার ভাইয়েরা বাড়িতে ছিলেন না।
মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা মাঝে মধ্যে গ্রামে এসে দলাদলি ও বিরোধ সৃষ্টি করেন। এতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠে। গ্রামকে শান্ত রাখার স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সতর্ক করেন মাত্র।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল আওয়াল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামকে ঐক্যবদ্ধ করে গ্রামের উন্নয়নসহ দাঙ্গামুক্ত রেখেছি। তারা আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনর্চাজ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনা স্থলে যাই। ওই পরিবারটার সঙ্গে গ্রামের একটি গোষ্ঠীর বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে হুমকি দামকি ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। এলাকাটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস