পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের এক সাধারণ নারী আজ অনেকের অনুপ্রেরণার নাম। সংগ্রাম, সাহস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন কাকলি বেগম।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে তার জীবনগল্প যেন প্রান্তিক নারীদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা।
শৈশব থেকেই কাকলির জীবন সহজ ছিল না। পিতা-মাতার বিচ্ছিন্নতার কারণে ছোটবেলা কেটেছে দাদা-দাদির কাছে। অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে ভেঙে দেয়নি; বরং সংগ্রামী হতে শিখিয়েছে।
মাত্র ১৫শ টাকায় প্রতিবেশী আত্মীয়ের কাছ থেকে দর্জি কাজ শেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার আত্মনির্ভরতার যাত্রা। পরে স্বামী সাইফুল ইসলামের ৫ হাজার টাকার সঞ্চয় দিয়ে ছোট পরিসরে কসমেটিক্স ব্যবসা শুরু করেন। সেই ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে বড় হয়ে আজ “ফ্যামিলি বিজনেস ই-সেন্টার”-এ রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কসমেটিক্স, দর্জি কাজ, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ), ফ্লেক্সিলোডসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। ক্রেতাদের আস্থা ও নিজের পরিশ্রমের ফলে আজ তার ব্যবসার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা।
কাকলি বেগম বলেন, “নিজে আয় করতে পারা এবং কারোর ওপর নির্ভর না করা—এই স্বাধীনতাই একজন নারীর আসল শক্তি।”
তার সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। পাশাপাশি স্বামী সাইফুল ইসলামের উৎসাহ ও সহযোগিতাও তাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।
উপজেলার বিলবিলাস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ছোট্ট দোকানঘরেই গড়ে উঠেছে তার স্বপ্নের ব্যবসা কেন্দ্র। আজ শুধু নিজের পরিবার নয়, আশপাশের অনেক নারীকে ছোট ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি।
কাকলি বেগমের গল্প আমাদের শেখায়—দারিদ্র বা প্রতিকূলতা কখনো জীবনের শেষ কথা নয়। উদ্যোগ, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে একজন নারীও হতে পারেন নিজের ভাগ্যের নির্মাতা।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর