বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার থাকা রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এবার আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের খালাসি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ কার্যক্রম অযৌক্তিকভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে। এর ফলে অধিকার বঞ্চিত রেলওয়ে পোষ্য পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
মনিরুজ্জামান মনির জানিয়েছেন, আগামী ১৬ জুন ২০২৬-এর মধ্যে আদালতের রায় অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে ২১ জুন থেকে ঢাকা রেলভবন চত্বরে অধিকার বঞ্চিত রেলওয়ে পোষ্যদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা হবে। নিয়োগপত্র প্রদান না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, খালাসি পদে নিয়োগে অনিয়ম, কোটা বঞ্চনা ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আইনি লড়াই চলে। পরবর্তীতে আদালত যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। আদালতের নির্দেশনার পর যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হলেও গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণের পরও প্রায় ছয় মাসে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।
মনিরুজ্জামান মনির দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্র আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন কৌশলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি রেলওয়ের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার, টিএলআর শ্রমিক, গেইটকিপার, নিরাপত্তা বাহিনীর রেশনিং ব্যবস্থা, ঝুঁকি ভাতা, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের পরিবারের নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি ও আন্দোলন করে আসছেন।এছাড়া রেলওয়ে কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধনের জন্য নিজেই বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের, রেলওয়ে মহাপরিচালক এর ক্ষমতা পূর্ণ উদ্ধারসহ বিভিন্ন আইনি উদ্যোগেও তিনি সম্পৃক্ত আছেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছি এবং মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। কারণ কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমাকে সেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রেলওয়ের বিরুদ্ধে নই, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও অধিকার বঞ্চিত পরিবারগুলোর ন্যায্য নিয়োগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা শুধু ভুক্তভোগীদের হতাশ করছে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থার বিষয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। অনেকের মতে, রেলওয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় দীর্ঘদিন কাজ করা একজন ব্যক্তি যখন ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন, তখন বিষয়টিকে কেবল একটি আন্দোলন নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব