সদ্য প্রয়াত বরেণ্য চিত্রগ্রাক ও পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে নিয়ে গাম্ভীর্যপূর্ণ মেদহীন একটি পোস্ট দিয়েছেন চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান। যা পড়লে একজন বাচ্চু কতটুকু সমীহ জাগানিয়া পুরুষ ছিলেন তা অনুমান করা যায়। আজকালের খবরের পাঠকদের জন্য তা অবিকৃতভাবে তুলে ধরা হলো-
১৯৭৭ সালের প্রথম ছবি আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ এবং অশোক ঘোষের ‘মতিমহল’। ওই বছরের শেষ ছবি সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’ এবং আব্দুল লতিফ বাচ্চুর ‘যাদুর বাঁশি’। ‘মতিমহল’ সত্তর দশক কাঁপানো ফ্যান্টাসি ছবি। ঢালিউডে এই মানের হিট ছবি হাতেগোনা। উল্টোদিকে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘বসুন্ধরা’ এবং ‘যাদুর বাঁশী’ এই দেশের সিনেমার ইতিহাসে তিনটা রত্ন।
১৯৭৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রতিযোগিতা থেকেই দেখুন। শ্রেষ্ঠ ছবি, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার এবং শ্রেষ্ঠ শিল্পনির্দেশক বিভাগে পুরস্কার পায় ‘বসুন্ধরা’। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক বিভাগের পুরস্কার যায় ‘সীমানা পেরিয়ে’র ঘরে। আর শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার (আহমদ জামান চৌধুরী), শ্রেষ্ঠ সুরকার (আজাদ রহমান) এবং শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী (রুনা লায়লা) বিভাগে ট্রফি জেতে ‘যাদুর বাঁশী’।
‘যাদুর বাঁশী’ আব্দুল লতিফ বাচ্চুর প্রথম পরিচালিত ছবি। এই ছবি দিয়ে নরসিংদীর সিনেমা হল ‘সংগীতা’র উদ্বোধন হয়। ‘যাদুর বাঁশী’ প্রথম কোনো ছবি যা ঢাকায় মুক্তির আগে আগে মুক্তি পায় ঢাকার বাইরে। পরবর্তী সময়ে অগণিত ছবি রাজধানীর আগে দেখেছে মফস্বলের দর্শকরা। তবে ‘যাদুর বাঁশী’-তেই এই ঘটনা প্রথম ঘটে।
চলচ্চিত্রে এই ছবির জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সমীহ পেয়েছেন চিত্রপরিচালক ও চিত্রগ্রাহক আব্দুল লতিফ বাচ্চু। আজ তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সবাই বিদায়ের সময় নিজের ছাপ রেখে যেতে পারেন না। তিনি তার স্বকীয় পদচিহ্ন রেখে যেতে পেরেছেন।
আব্দুল লতিফ বাচ্চু অনেক বিখ্যাত ছবির জন্য ক্যামেরা চালিয়েছেন। বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দেশের শীর্ষ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গেও। তিনি দীর্ঘদিন সিনেমাটোগ্রাফারদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।
ছোটপর্দার অন্তত দুজন শীর্ষ তারকা আব্দুল লতিফ বাচ্চুর হাত ধরে সেলুলয়েডে অভিষেক ঘটান। সুবর্ণা মুস্তাফা এই নির্মাতার ‘নতুন বউ’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় আসেন। কাজী জহিরের ব্যানার থেকে তৈরি ছবিটির জন্য ১৯৮৩ সালে সুবর্ণা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান। কিন্তু পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পুরস্কার দেওয়ায় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসানেরও অভিষেক আব্দুল লতিফ বাচ্চুর ছবিতে। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বলবান’ ছবিতে প্রথম দেখা যায় জাহিদ হাসানকে। কিন্তু ওই ছবিতে খুব বড় ব্রেক তিনি পাননি। ফলে ছবিটির কথা বেশির ভাগ সময় আড়ালেই থেকে যায়।
আব্দুল লতিফ বাচ্চুর কর্মজীবন এই রকম আকর্ষণীয় ঘটনায় ভরা। তার মতো বর্ণাঢ্য জীবন সব শিল্পীর হয় না। বছরের শেষ ছবি দিয়ে তার পরিচালনাজীবন শুরু হয়েছিল। সেই তিনি পৃথিবীর পাঠ চুকালেন বছরের শুরুতেই।
আজকালের খবর/আতে