মো. আবুল কাশেম
আজ ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে সময়ের দাবি মেটাতে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সৃষ্টি করলেন নতুন রাজনৈতিক দল। যার নাম দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধমে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করা হয়, তা পূরণে ইতিহাসের দাবি, দেশবাসীর আকাক্সক্ষায় বিএনপি নামে দলটির অভ্যুদয় ঘটে। যার পুরোধা ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এই দলের চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর পূর্বে রাষ্ট্রপতি জিয়া ছিলেন এই দলের সমন্বয়ক এবং দলের প্রথম চেয়ারম্যান। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এই দলের প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়াউর রহমানের এই দলে বাম, ডান ও মধ্যপন্থীসহ সকল স্তরের লোক ছিলেন। বিএনপির সব থেকে প্রধান বৈশিষ্ট ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যদের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ্য যে বিএনপি গঠন করার আগে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২২ তারিখে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। তখন বেশিরভাগ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন সেই সময়ে দেশ পরিচালনাকারী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। জাগোদল ছিল দেশের জাতীয়তাবাদীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রথম প্রচেষ্টা। মেজর জেনারেল (অব.) এম. মজিদ উল হক, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, শামসুল আলম চৌধুরী, এ জেড এম এনায়েতুল্লাহ খান, এম. হামিদুল্লাহ খান, জাকারিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এম আর খান এবং সাইফুর রহমান ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অধীনে এর সদস্যপদ সুসংহত করার জন্য ১৯৭৮ সালের ২৮ আগস্ট নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়া আরো একটি কথা বলা বাহুল্য, বিএনপি দল গঠনের ২১ দিনের মধ্যে ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট দলটির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়, যার প্রধান আহ্বায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন এম. হামিদুল্লাহ খান এবং মহাসচিব ছিলেন ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। পরবর্তিতে প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময়ে, এটি নবগঠিত ছাত্র শাখা এবং যুব শাখায় যোগদানকারী বিপুল সংখ্যক সমর্থক এবং কর্মীকে আকৃষ্ট করে। সরকার গঠনের পর, দলের প্রথম নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১২ সদস্য বিশিষ্ট দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম হিসেবে একটি জাতীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নামে একটি যুব শাখা গঠিত হয় যার প্রধান আহ্বায়ক ছিলেন আবুল কাশেম। ঢাকা ইউনিটের আহ্বায়ক ছিলেন সাইফুর রহমান। কয়েক মাসের মধ্যেই যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়, যার সভাপতি ছিলেন আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাইফুর রহমান। মির্জা আব্বাস ঢাকা ইউনিটের সভাপতি হন এবং মহাসচিব হন কামরুজ্জামান আয়াত আলী। এভাবেই সময়ের প্রয়োজনে আস্তে আস্তে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পূর্ণতা পায়। যা দেশের মানুষের কাছে প্রিয় দল হিসেবে পরিণত হয় বিএনপি। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, শৃংখলা ফিরিয়ে মানুষের কল্যাণকারী দলে পরিণত হয় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাই এ দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যই ছিল দেশ ও দেশের মানুষের শান্তি, উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা। জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণাপত্রে এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
সংক্ষেপে এ দলের কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিচে বর্ণিত করা হলো: (ক) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-ভিত্তিক ইস্পাতকঠিন গণঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত ও সুসংহত করা। (খ) উৎপাদনের রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জনগণের গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন। (গ) জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে গ্রামে-গঞ্জে জনগণকে সচেতন ও সুসংগঠিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ও প্রকল্প রচনা ও বাস্তবায়ন ক্ষমতা ও দক্ষতা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া। (ঘ) এমন এক সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় সমাজের মৌলিক স্তরে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়। (ঙ) এমন একটি সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিশ্চিতি দেওয়া যার মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাদের মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে পারবেন। (চ) বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের মাধ্যমে স্থিতিশীল গণতন্ত্র কায়েম করা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়ন। (ছ) গণতান্ত্রিক জীবন ধারা ও গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার রক্ষাকবচ হিসাবে গণনির্বাচিত জাতীয় সংসদের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা। (জ) রাজনৈতিক গোপন সংগঠনের তৎপরতা এবং কোন সশস্ত্র ক্যাডার, দল বা এজন্সি গঠনে অস্বীকৃতি জানানো ও তার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা। (ঝ) জাতীয় জীবনে মানবমুখী সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন এবং সৃজনশীল উৎপাদনমুখী জীবনবোধ ফিরিয়ে আনা। (ঞ) বাস্তবধর্মী কার্যকরী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সুষম অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যাতে করে সকল বাংলাদেশি নাগরিক অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের সুযোগ পায়। (ট) সার্বিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দান করা ও সক্রিয় গণচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। (ঠ) নারী সমাজ ও যুব সম্প্রদায়সহ সকল জনসম্পদের সুষ্ঠু ও বাস ভিত্তিক সদ্ব্যবহার করা। (ড) বাস্তবধর্মী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক স্থাপন এবং সুষ্ঠু শ্রমনীতির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা। (ঢ) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও বাংলাদেশের ক্রীড়া সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রসার সাধন। (ণ) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশি জনগণের ধর্ম ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের জনগণের যুগপ্রাচীন মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করা, বিশেষ করে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর জাতীয় তাদের অধিকতর সুবিধা ও অংশগ্রহণের সুযোগের যথাযথ ব্যবস্থা করা। (ত) পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে জোট নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব, প্রীতি ও সমতা রক্ষা করা।
সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে, তৃতীয় বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে প্রীতি ও সখ্যতার সম্পর্ক সুসংহত এবং সুদৃঢ় করা। যার প্রমাণ বাংলাদেশের মানুষ অতীতে পেয়েছেন। আগামিতেও দেশের মানুষ বিএনপির কাছে সুফল পাবেন এমন প্রত্যাশা আছে, তা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা, সর্বজন শ্রদ্ধেয় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার যোগ্য উত্তরসুরী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবার নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে সাবেক সংসদীয় হুইপ ও জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালের মার্চে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের মহাসচিবের ভার দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন সফলতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত মির্জা ফখরুল ইসলামকে বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সপ্তম মহাসচিবের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। বর্তমানে তিনিই বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর বেগম খালেদার বার্ধক্যজনিত কারণে দলটি গতিশীল, সুসংগঠিত করতে তারেক রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানের দায়িত্ব ভার অর্পণ করা হয়। তার নেতৃত্বে গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নানা চড়াই-উৎড়াই পার করে এখন একটি সুংসগঠিত ও সুশৃংখল দলে পরিণত হয়েছে। তার বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশ থেকে বিতারিত হয়েছে। ফলে দেশ এখন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দিকে ধাবিত হচ্ছে। দলের মধ্যে সঠিক ধারা, সঠিক ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। যা অব্যাহত থাকলে দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। অন্যদিকে বিগত দিনে নানা পদক্ষেপে ও কর্মকাণ্ডে তার বাবা জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের ইতিহাস হয়ে উঠেছে অভিন্ন। ব্যক্তিগত সততা, উন্নয়ন, ঐক্য এবং সুসম্পর্কের রাজনৈতিক দর্শণের কারণে রাজনীতির ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। সেই সময় ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি কালজয়ী অবদান। রাষ্ট্রনীতিবিদরা এ ১৯ দফা কর্মসূচিকে একটি যুগোত্তীর্ণ ‘ভিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জিয়াউর রহমান এ কর্মসূচি নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক গণসংযোগ করেন এবং সফল হোন।
উন্নয়নে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে অবদান মূলত তার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কর্মকাণ্ড এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলন-এ তার নেতৃত্বের মধ্যে নিহিত। ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে দেশ ও সমাজে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যেমন তার শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখা। এ ছাড়া, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। বেগম খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই দুই মেয়াদে দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া দলের প্রধান হিসাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা ছিল অনেক। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ খুলে যায়। অপরদিকে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি দল শক্তিশালী হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে অবদান রাখে। বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, বরং একজন নেত্রী হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তার নেতৃত্বে দল ও দেশীয় উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য। সেই ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে শক্তিশালি ও সুসংগঠিত করা সহ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিশালী করতে ৩১ দফা কর্মসুচী দিয়েছেন। যা আগামিতে বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ এবং জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। সব শেষ কথা হচ্ছে-বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা ও গণতন্ত্রের জন্য যে ভূমিকা রেখেছে তা কোন রাজনৈতিক দল করতে পারেনি। এখন বিএনপির ভবিষ্যত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রায়ন। এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা। এ ছাড়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনার ভিত্তিতে সবাইকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গঠন করা। জনগণের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতার মানসিকতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা। এসব বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তাই আগামীতে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে এমনই প্রত্যাশা হোক সকলের।
মো. আবুল কাশেম: হামজা গ্রুপের সত্বাধীকারী, সদস্য জেলা বিএনপি, নাটোর ও উপদেষ্টা, আমরা বিএনপি পরিবার।
আজকালের খবর/আরইউ