শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২৬
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে
প্রকাশ: রোববার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:১০ পিএম   (ভিজিট : ৬৩৪)
দেশের প্রত্যন্ত এলাকা, গ্রামে বসবাসকারী তরুণ-তরুণীরাও আজকাল লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে হাজার হাজার ডলার আয় করছেন। যা একদশক আগেও কল্পনা করতে পারেনি তারা। সাধারণ অস্বচ্ছল দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা সরকারের আইসিটি বিভাগ থেকে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ফ্রি প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং-এর কাজে নিয়োজিত হতে পারছেন বর্তমানে। মাত্র ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েই তারা কাজে নেমে পড়তে পারছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি এখন তারা প্রতিমাসে কমপক্ষে তিন থেকে চারশ ডলার উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন। এর মাধ্যমে দরিদ্র অস্বচ্ছল পরিবারগুলোতে স্বচ্ছলতা আসছে, স্বাচ্ছন্দ্যের ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামীণ জীবনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে এইসব উদ্যমী তরুণ-তরুণীর ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করেন। নির্বাচনে জয়ের পর ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়। তখন থেকেই ডিজিটাল বাংলাদেশের দিনবদলের যাত্রা শুরু। সেই যাত্রার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে আজ বাংলাদেশ নতুন এক অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে এদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাপন, ভাগ্য, কর্মকাণ্ড, চিন্তাভাবনা, স্বপ্নÑ সবই। শুধুমাত্র আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সুবাদে দেশের রেমিট্যান্স দিনে দিনে ক্রমেই বাড়ছে। করোনা মহামারির মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবাসে কর্মরত এক কোটি বাংলাদেশির সাথে দেশের রেমিট্যান্সকে আরো বাড়িয়ে নিতে দেশে অবস্থান করেও রেমিট্যান্স যুদ্ধে নেমেছেন লাখ লাখ তরুণ। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে তারা আনছেন তাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। ফলে একদিক থেকে তারা যেমন নিজেদের স্বাবলম্বী করছেন, তেমনি বৃদ্ধি করছেন দেশের রেমিট্যান্স আয়। এইখাতে এখন ঘটে চলেছে নীরব বিপ্লব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনার ফসল এবং সুফল এভাবেই ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। তাদের সেই রূপকল্প বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের চেহারা, এখানকার মানুষের জীবনযাপন এবং ভাগ্য তাদের অসাধারণ দূরদর্শিতার কারণে আমরা এখন একটি মেধাভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করছে। যা আগামী দিনের বাংলাদের সম্ভাবনা আরো সুবিস্তৃত করছে।
এখন প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সেন্টার। যেখান থেকে মানুষ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেখানে ডিজিটাল বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হয়ে এ  লাইনের পেশায় যুক্ত হতে পারছেন লাখ লাখ তরুণ-তরুণী। 
এখন আর শুধু বেসরকারি সেবা নয়, সরকারি সব সেবাও মিলছে অনলাইনে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে সবচেয় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো যে কাজে সেই জমির পর্চাও মিলছে অনলাইনে। জন্মমৃত্যু নিবন্ধন, ই-নামজারি, পাসপোর্টের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে সবকিছুই মিলছে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে। ঢাকার বাইরে তিন হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে ডিজিটাল সেন্টার। সেখানে ২৭০টিও বেশী সেবা পাওয়া যাচ্ছে। দেশে স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে প্রান্তিক একক ইউনিয়ন পরিষদ। ২০০৯ সালে ১০০টি ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু হয়ে ১২ বছর পর গোটা দেশে এখন সাড়ে চার হাজারেরও বেশী ইউনিয়নের প্রায় সব কটিতেই ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে। এর প্রতিটিতে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তা রয়েছে, যারা ডিজিটাল সেবার আওতা বাড়িয়ে দিচ্ছেন প্রান্তিক মানুষের কাছে। এর পাশাপাশি পৌরসভা ও নগর ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে আরো প্রায় সাড়ে ৭০০ পৌর ডিজিটাল সেন্টার। ফরে ঘর থেকে বের হলেই মিলছে এই সেবা। মানবসম্পদ উন্নয়ন, সুলভমূল্যে ইন্টারনেট, সরকারের সব সেবাকে ডিজিটাল করা এবং একটি আধুনিক উন্নতমানের আইসিটি শিল্পের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। সে লক্ষ্যে আইসিটি নীতিমালাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ইন্টারন্টে দেওয়ার কথা ২০০৯ সালের আইসিটি নীতিমালায় দেওয়া হয়েছে। দেশে মোবাইল ফোন সেবা টু জি থেকে থ্রি জি এরপর ফোরজি এবং বর্তমানে ফাইভজিতে যাওয়ার কথা হচ্ছে, সেটিসহ একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ওয়ার্ক প্ল্যান সেখানে রয়েছে। ইন্টারনেটের দাম ৭৮ হাজার টাকা এমবিপিএস থেকে কমিয়ে ২০০ টাকার নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। সবাইকে সুলভমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে সুযোগ করে দেওয়া বর্তমান সরকারের বিরাট সাফল্য। যদি ঢাকার বাইরে তিন হাজার আটশ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল না যেত, তাহলে এই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটিতে পৌঁছাত না। যে ইউনিয়নে বিদ্যুৎ ছিল না, সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে সেখানেও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলোর সুফল সাধারণ জনগণ পাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও এখন ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে। দুর্গম, পার্বত্য এলাকা, হাওড়, দ্বীপ এলাকাÑ কোনো কিছুই আর এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না কোনোভাবেই।
ডিজিটাল বাংলাদেশ যুগে প্রবেশের কারণে আমাদের জীবন-যাপন অনেকটা পাল্টে গেছে। আজকাল ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও চেক উপস্থাপন না করে টাকা তোলা যাচ্ছে এটিএম বুথ থেকে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত এবং খুব কম সময়ে বিভিন্নজনের কাছে টাকা পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়ে। আগে ব্যাংকে গিয়ে টিটি কিংবা ডিডি অথবা পে অর্ডার ইস্যুর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হতো। সেখানে সময় লেগে যেতো অনেক প্রাপকের কাছে টাকা পৌঁছাতে। দেশে বর্তমানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ছাড়িয়েছে। দৈনিক মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি টাকা। ই-টেন্ডার ব্যবস্থা চালুর ফলে সরকারি ক্রয় এবং এতসংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। এখন প্রভাবপ্রতিপত্তির জোরে টেন্ডার ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা জোর করে সরকারি কাজ পাওয়ার দিন শেষ হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে অতীতের চিঠিপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়ার বদলে ই-মেইল ব্যবহারের চল শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে খুব কম সময়ে প্রাপকের ইমেইল ঠিকানায় পত্র, সার্কুলার, দপ্তর স্মারক ইত্যাদি পাঠাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন কর্মকর্তারা। এটা ১০ বছর আগেও ভাবতে পারতেন না তারা। করোনা মহামারীর সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পেরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, প্রাইমারি, কিন্ডারগার্টেন পর্যায়েও শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। যা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারার ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে দিতে পেরেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যেকার যোগাযোগ এবং পাঠদান কার্যক্রমে ছেদ পড়েনি। করোনাকালে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা প্রভৃতির বোর্ডসভা, নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলো ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাহীও কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি নিজ ঘরে কিংবা শাখা অফিসে অবস্থান করে প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এটা গোটা প্রশাসন ব্যবস্থাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে, জোর গলায় বলা যায়।
২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য দিন বদলের উপখ্যান ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র স্বপ্ন উপস্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, দেশের সব মানুষের কাছে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিককে দুই কিলোমিটারের মধ্যে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমের আওতায় আনতে ২০২৩ সালের মধ্যে ১০ হাজার ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্প। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন সেবা সংক্রান্তকরণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় প্রায় ৫০০ রকমের সরকারি-বেসরকারি সেবা এসব সেন্টারের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বর্তমানে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ডিজিটাল সেন্টারে ২৭০টির বেশী সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ জমির পর্চা, নামজারি, ই-নামজারি, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমাদান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, হজ্জ রেজিস্ট্রেশন, সরকারি সেবার ফরম, টেলিমেডিসিন, জীবনবীমা, বিদেশে চাকরির আবেদন, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, বাস-বিমান, ট্রেন, লঞ্চ টিকেটিং, মেডিক্যাল, ভিসা, চিকিৎসকের অ্যাপয়েনমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, সিম বিক্রয়, বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার, এবং কারিগরী প্রশিক্ষণ, ই-মেইল, কম্পোজ-প্রিন্ট-প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ফটোকপি, সরকারি ফরম ডাউনলোড করা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল জানা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করা, অনলাইন ভিসার আবেদন করা, কৃষি পরামর্শ ও তথ্য সেবাসহ নানা ধরনের সেবা।এই ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে একজন উদ্যোক্তা সেবা দেওয়ার মাধ্যমে মাসে পাঁচ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন। গড়ে প্রতিমাসে ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে ৮০ লাখেরও বেশী মানুষ সেবা গ্রহণ করছেন। 
গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে সাত একর জমির উপর তৈরি করা হয়েছে জাতীয় তথ্যভাণ্ডার বা জাতীয় ডাটা সেন্টার। এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ডাটা সেন্টারের স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘হার্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ খ্যাত এই ডাটা সেন্টার শুধুমাত্র তথ্যের সুরক্ষাই দিচ্ছে না, এর মাধ্যমে বছরে সাশ্রয় হচ্ছে  ৩৫৩ কোটি টাকা। শুধু দেশীয় তথ্যের সুরক্ষা নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে নিরাপত্তা সুরক্ষায় এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে দেশের তথ্য-উপাত্ত নিরাপদে সংরক্ষণ ও নিরবচ্ছিন্ন গুণমানসম্পন্ন ই-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এক হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশী ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সরকারি-বেসরকারি খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণের জন্য বড় পরিসরে ডাটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ প্রকল্প সরকারের তথ্য প্রযুক্তিসহ অন্যসব প্রকল্পের বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নির্বাচন কমিশন, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, এটুআই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত এই ডাটা সেন্টারের অধীনে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডাটাগুলোর নিরাপত্তা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, যা ভবিষ্যতে আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই তথ্যের সুরক্ষার জন্য এটি স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এর চমকপ্রদ উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটেছে দেশে সামগ্রিক আর্থিক লেনদেন কার্যক্রমে। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যন্ত আর্থিক লেনদেন নতুন এক বিপ্লব ঘটেছে। প্রান্তিক মানুষও এখন ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে স্বাচ্ছন্দ্য ও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মূলত বিকাশের হাত ধরে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সূচনা ঘটলেও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের কাণ্ডারি শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সুবিধা গ্রামের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ডাক বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ। দেশের প্রায় এককোটি মানুষের কাছে সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে তারা। এটা আজ সবাই উপলদ্ধি করেছেন আর্থিক খাতে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই বেশ অনেকটাই সফল বাংলাদেশ। আগে বয়স্ক, বিধবা, অস্বচ্ছল, দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদের অনেক দুর্ভোগ কষ্ট পোহাতে হতো দূরবর্তী উপজেলা বা জেলা সদরে গিয়ে ব্যাংক থেকে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। সাধারণ দুঃস্থ, দরিদ্র অসহায় মানুষগুলোর সেই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের দিনের অবসান ঘটেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যাদু সব কষ্ট দুর্ভোগ এক নিমিষেই দূর করে দিয়েছে তাদের। এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা তাদের ভাতার টাকা পেয়ে যাচ্ছেন দ্রুত এবং ঝামেলাবিহীনভাবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস মানে এমএফএস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারুণ এক বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে বলা যায়। দেশের বর্তমান এমএফএস এ অ্যাকাউন্ট প্রায় ১২ কোটি। এর মধ্যে সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। বিকাশের মাধ্যমে খোলা একাউন্টের সংখ্যা ছয় কোটির মতো, আর নগদের একাউন্ট সাড়ে পাঁচ কোটি। রকেটের মাধ্যমেও খোলা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা আড়াই কোটির মতো। তবে একজন মানুষ একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারও করছেন। দেশের সব মানুষের হাতে এই সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্নমুখী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন হাতে হাতে নগদ লেনদেনের বদলে নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের অর্থাৎ ক্যাশলেস সোসাইটির কথা ভাবছে। নগদ লেনদেনের ঝুঁকি ঝামেলা ও বিড়ম্বনা এড়াতে ডিজিটাল মানি ট্রান্সফারে ঝুঁকে পড়ছেন দেশের মানুষ। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক প্রকাশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল শহরে কেন্দ্রীভূত নেই এখন। গ্রামের সাধারণ মানুষও এর সুফল পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনা যখন ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা করেছিলেন তখন অনেকেই এটা অবাস্তব অসম্ভব অলীক কল্পনা বলে বিদ্রুপ করেছিলেন। তার অসাধারণ প্রজ্ঞা, বিচক্ষণ, দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল রূপ লাভ করেছে। আজ ২০২১ সালের শেষে এসে আমরা বলতে পারছি, শেখ হাসিনার দেখানো সেই স্বপ্ন এখন আমাদের কাছে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে দেশের আপামর সব জনগণ। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নিন্দা আর মিথ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া মহলও ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা গ্রহণ করছে নিত্যদিন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত  ব্যাংকার , কলাম লেখক। 
আজকালের খবর/আরইউ









সর্বশেষ সংবাদ
নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানী ও কৃষি শ্রমিকদের অবদান রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী
ভোটের প্রচারণায় এগিয়ে মনোজ বৈদ্য
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগে সমতা চায় টিআইবি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সুবাহর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন
তাদের মাখো মাখো ‘প্রেমের প্রাসাদ’!
‘আমাকে জায়গা দিন, এটা আমার প্রাপ্য’ : লালকেল্লার দাবিদার মোগল সম্রাজ্ঞী
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft