রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তে দুটি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের দেওয়া চার দফা দাবি মেনে নেওয়ায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে তারই প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম অবরোধ উঠিয়ে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল সেই চার দফা দাবির সবগুলোই মোটামুটিভাবে পূরণ করতে পেরেছি। যিনি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা ঘুষ বা দুর্নীতি যেটাই হোক সে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকে একটা তদন্ত কমিটি, রেলের জন্যও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় ৭ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
আজকালের খবর/বিএস