মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, বেতন-ভাতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জোহর রাজ্যের তিনটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করেছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনকালে কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও উৎপাদনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল জোহরের মুয়ারে অবস্থিত বান লেং উডওয়ার্কিং এসডিএন বিএইচডি, পেকে নানাসে অবস্থিত অলটন ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি এসডিএন বিএইচডি-এর ইলেকট্রনিকস কারখানা এবং মালয়েশিয়ান ক্লিনজিং সার্ভিসেস এসডিএন বিএইচডি-এর কর্মীদের আবাসন (হোস্টেল) পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, মানবসম্পদ (হিউম্যান রিসোর্স) ব্যবস্থাপক এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, কর্মপরিবেশ, আবাসন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং অন্যান্য শ্রমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি কর্মীদের আইনানুগ অধিকার, সময়মতো বেতন পরিশোধ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে কর্মীদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে হাইকমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। তারা জানান, বাংলাদেশি কর্মীরা উৎপাদনশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভবিষ্যতেও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ রয়েছে বলেও তারা প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন। কর্মীদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশনায় মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মপরিবেশ ও কল্যাণ তদারকিতে নিয়মিতভাবে কারখানা, কর্মস্থল ও আবাসন পরিদর্শন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশি শ্রমশক্তির ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আজকালের খবর/এমকে