লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—রবিবারের ফাইনালই কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ?
ফাইনালের আগে এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি রহস্যই বজায় রাখেন। সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি বলেন, “লিওকে জিজ্ঞাসা করুন।”
তবে এরপরই মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। তাঁর ভাষায়, মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অংশ।
স্কালোনি বলেন, “মেসি নিখাদ ইতিহাস, একজন কিংবদন্তি। ৩৯ বছর বয়সে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা অবিশ্বাস্য। যত দিন তিনি মাঠে থাকবেন, তত দিন আমাদের তাঁর খেলা উপভোগ করা উচিত। দিয়েগো মারাদোনাকে আমরা মিস করি, কিন্তু মেসি এখনও ইতিহাস লিখে চলেছেন। এই দলের সঙ্গে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা আমরা সারাজীবন মনে রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাঁর কোচ হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।”
এদিকে, ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টের সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্কালোনি। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের গরমে অনুশীলনের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্কালোনির ভাষায়, “আমরা বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছি। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কারণে তাড়াহুড়ো করে অনুশীলন করতে হয়েছে। নতুন কিছু নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাইনি। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বেশি বিশ্রাম প্রয়োজন, কিন্তু এখানে ঠিক উল্টোটা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
ফাইনালকে ঘিরে বাড়তি চাপ অনুভব করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, “গত বিশ্বকাপের ফাইনাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। সেটি এখন অতীত।”
মেসি আরও বলেন, “আমরা আবেগ নিয়ে ফুটবল খেলি। ছোটবেলা থেকে স্কুল, রাস্তা কিংবা পাড়ার মাঠ—যেখানেই খেলেছি, সবসময় খেলাটা উপভোগ করেছি। ফাইনাল নিয়েও আলাদা করে চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
আজকালের খবর/ এমকে