ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি ঘটেছে।
বুধবার (১৯ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়।
নদী তীরবর্তী আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, সোমবার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বুধবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে ঘরে পানি ঢোকায় আসবাব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ করা প্রয়োজন। সেটি সম্ভব হলে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।
বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে গেলে নদীভাঙন শুরু হয়ে বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আমরা কোন ত্রাণ চাইনা, এর স্থায়ী সমাধান চাই!
আজকালের খবর/বিএস