ভরদুপুরে মরিস টাউনশিপের কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টার কার্যত ঝিমিয়ে। গাছগাছালিতে ঘেরা এই বিশাল ক্যাম্পাসই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আস্তানা। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ৮টি ফুটবল মাঠ যেন সবুজ কার্পেট। কৃত্রিম ঘাসের মাঠও রয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীর ব্যারিকেড ভেঙে মাছি গলার জো নেই। তবে নেইমারদের অনুশীলন পেঁজা তুলোর মতো ফুরফুরে।
জাপানের বিরুদ্ধে সাম্বা ফুটবলের পোস্টার বয়কে মাঠে নামাননি ব্রাজিল কোচ। ফিট হওয়ার জন্য বাড়তি সময় পেয়ে নেইমার আরও চনমনে। ব্রাজিল সাংবাদিকদের বৃত্তে পোস্টার বয়কে নিয়ে জোর আলোচনা।
মনে করা হচ্ছে, কোয়ার্টার-ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে পুরো ফিট নেইমারকে আস্তিন থেকে বের করবেন আনসেলোত্তি। দুর্ধর্ষ ভাইকিংদের বিরুদ্ধে নেইমারের অভিজ্ঞতা ট্রাম্প কার্ড হতেই পারে।পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেলের দেশ। কিন্তু অদ্ভুতভাবে নরওয়ের বিরুদ্ধে সেলেকাওদের ট্র্যাক রেকর্ড একেবারেই অনুজ্জ্বল। মুখোমুখি চার সাক্ষাতে দু’টি ম্যাচে জিতেছে নরওয়ে।
বাকি দুই ম্যাচ ড্র। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিতভাবে সাম্বার দেশকে বশ মানিয়েছিল নরওয়ে। তার উপর আর্লিং হালান্ড দুরন্ত ফর্মে। ইতিমধ্যেই চলতি টুর্নামেন্টে পাঁচ গোলের মালিক তিনি। ছ’গজের বক্সে শিকারি বিড়ালের মতো উপস্থিতি। প্রতিপক্ষ রক্ষণ বিপদ আঁচ করার আগেই বল জালে।
গোল্ডেন ম্যান হালান্ডকে রোখাই মার্কুইনহোসদের চ্যালেঞ্জ। ব্রাজিলের মাঝমাঠেও সমস্যা প্রচুর। শ্লথ কাসেমিরোকে গতিতে টপকে গোল করেছিল জাপান। তা নিশ্চয়ই নরওয়ে কোচের চোখ এড়ায়নি। পাশাপাশি হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ছিটকে গিয়েছেন পাকুয়েতাও।
মাঝমাঠের বাঁধুনি ঠিক রাখাই কার্লো আনসেলোত্তির চ্যালেঞ্জ। তবে এদিন চোট কাটিয়ে রিহ্যাব শুরু করেছেন রাফিনহা। হাইতির বিরুদ্ধে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই উইং হাফকে। অনুশীলনে ফিজিওর সঙ্গে আলাদাভাবে রিহ্যাব করলেন তিনি। তবে নরওয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে পাওয়া মুশকিল। তরতাজা রাখতে রায়ানকেও বিশ্রামে রাখেন আনসেলোত্তি।
আজকালের খবর/এমকে