বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমার রেকর্ড
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৪)
সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক এক নথিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা যে হারে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক অর্থ জমা করেছেন, তা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (এসএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ আমানতের পরিমাণ বেড়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে; যা বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি। 

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর টাকা জমার এই হার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ।

কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ৪৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি; যা এক বছর আগের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮২২.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

সুইস ব্যাংকে টাকা জমায় দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ

এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় নাগরিক ও দেশটির ব্যাংকগুলো। যদিও আগের বছরের তুলনায় তাদের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীতে বাংলাদেশের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এছাড়া সুইস ব্যাংকে আমানতের উল্লম্ফন দেখা গেছে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর।

২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দেশটি থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ আমানতের হার প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সুইস ব্যাংকে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।

• অতীতের রেকর্ড কী বলছে?

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা।

তবে ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ তার আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকার বেশি।

তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। ২০১৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। আর ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ‘মোট দায়ের’ মধ্যে ব্যক্তিগত, ব্যাংক এবং অন্যান্য উদ্যোগের আমানতসহ সব ধরনের তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বৈধ-অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। দেশটির কঠোর গোপনীয় ব্যাংকিং নীতির কারণে সারা দুনিয়ার মানুষ সেখানে অর্থ জমা রাখেন।

সুইজারল্যান্ডের আইনে গ্রাহকদের গোপনীয়তা দৃঢ়ভাবে রক্ষার নিয়ম রয়েছে। এ আইনের ফলে দেশটির ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের তথ্য কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয়।

ফলে কারা, কেন অথবা কীভাবে অর্থ ব্যাংকে রাখছেন, সে সম্পর্কে ব্যাংকগুলো কাউকে কোনো তথ্য দেয় না। তবে সম্প্রতি গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশগুলোর অনুরোধের ভিত্তিতে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য সরবরাহ করে। যে কারণে অনেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।

সূত্র: এসএনবি।

আজকালের খবর/ এমকে







আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft