অস্ত্রোপচার টেবিলে রোগী রেখেই চিকিৎসকের চলে যাওয়ার ঘটনায় চঞ্চল্য তৈরি হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে। এই অভিযোগের সূত্র ধরে পরিচালিত যৌথ অভিযানে কার্পাসডাঙ্গার বেসরকারি অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একের পর এক অনিয়ম ও চরম গাফিলতির তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ করে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি যৌথ টিম ওই ক্লিনিকে অভিযান চালায়। অভিযান পরিচালনাকারী দল চিকিৎসা সেবার মান, জনবল, অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতির প্রমাণ পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ জুন মুসলিমা খাতুন নামে এক নারীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। নির্ধারিত কোনো অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই এই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন শুরু করা হয়েছিল। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, অস্ত্রোপচার চলাকালীন একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই ক্লিনিক থেকে চম্পট দেন। এতে রোগীর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
এই অমানবিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে সরব হন। রোগীর স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর আজ এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার বিধি-বিধান লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা মেলে। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং আপাতত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র, চিকিৎসক ও জনবলের বৈধতা এবং সেবার মান পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব