চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করতে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প অনুমোদনের খবরে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালীতে আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে, অনেক জায়গায় মিষ্টিও বিতরণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী টানেলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিকল্প আধুনিক সড়ক গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারার লাবিবা কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে শুরু করে বাঁশখালী, টইটং, পেকুয়া ও বদরখালী হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।
সওজ চট্টগ্রাম দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, একনেকে অনুমোদনের পর এখন জরিপ কার্যক্রম, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। মহাসড়কটি নির্মিত হলে এই অঞ্চলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। প্রকল্প অনুমোদনের পর স্থানীয় জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের একনেক সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব