উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বহুমুখী চ্যালেঞ্জ এবং দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত এ বাজেট পেশ করেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উত্থাপন করার জন্য আহ্বান জানান। মূল বাজেটের পর অর্থমন্ত্রী চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটও উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘অর্থ অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা; যা জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপি’র ১২ দশমিক ৬ শতাংশ)। অন্যদিকে সংশোধিত বাজেটে আকার ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। সে হিসাবে এবারের বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিকে দুই দশক পর আবারো জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত মে-তে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত বাজেটে নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। অন্যদিকে, রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত বাজেটে করভিত্তি সম্প্রসারণ, করহার বাড়ানো, কর হার পুনর্বিন্যাস, ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা ব্যয় ও মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, আইসিটি-টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাত, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন তথা রাজস্ব আদায়। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
চলতি বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। আর কর ব্যতীত প্রাপ্তির (এনটিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তির (এনটিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন: প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদান ছাড়া সার্বিক ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি পূরণে আগামী বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা (সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত খাত থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ঋণ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অনুদান প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। এর বিপরীতে সংশোধিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। চলতি মূল বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে নেওয়া হয়েছে ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
কোন খাতে কত ব্যয়: প্রতিবারের মত এবারো বাজেটে পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে (অনুন্নয়ন) ব্যয় বাড়ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ভর্তুকি প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে নতুন বাজেটে ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের ‘থ্রিআর’ কৌশল অর্থমন্ত্রী:
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য সরকার তিন ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিকল্পনাকে ‘থ্রিআর (রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন) কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে এক বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ নিশ্চিত করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। এই তিন ধাপের কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর সংস্কার ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে দেশের মানুষের সৃজনশীলতা, শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর।
এ কারণে বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যাতে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা অর্জন, পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য একটি মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব খাতের দুর্বলতা আমাদের অর্থনীতির গভীর সমস্যাগুলোর একটি। বহু বছর ধরেই কর-জিডিপি অনুপাত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনও তা ৮ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা সমপর্যায়ের অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এর অর্থ হলো, সরকারের আয় বাড়ানোর সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয়ের চাহিদা যত বেড়েছে, রাজস্ব আহরণ ততটা বাড়েনি; ফলে ঘাটতি অর্থায়নের ওপর চাপ বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। উক্ত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। এই অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম, যা সরকারের আর্থিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তিনি বলেন, শুধু সম্পদ আহরণেই নয়, বাজেট বাস্তবায়নেও সক্ষমতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা থাকলেও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
তারপরও বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে বাজেটকে সংশোধন ও সমন্বয় করতে হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিতে সহায়ক নয়। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ব্যাংক পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছি। এই লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ বা আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। ব্যাংক খাতে সরকারের এই প্রকাশ্য ঘোষণাকে আমানতকারীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আশ্বস্তকারী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরো জানান, শুধুমাত্র অর্থ দেওয়াই নয়, ব্যাংক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাট করেছে।
এর মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ও ধ্বংস করা হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র দলীয় ও গোষ্ঠীগত দুরভিসন্ধিই ছিল প্রধান প্রবণতা। ফলে একদিকে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ সম্পদ দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হস্তগত হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যর্থতাগুলো ঢাকা হয়েছে মিথ্যা পরিসংখ্যান ও কথার ফুলঝুরি দিয়ে।
অর্থনীতিতে অবদান কম এবং মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে এমন খাতগুলোকে প্রস্তাবিত অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব খাতকে সামনে নিয়ে আসা হবে। এর মধ্যে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি এবং সুনীল অর্থনীতি। এসব খাতকে জাতীয় অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এসব খাতের অনুকূলে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব খাতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য যেমন আসবে, তেমনি ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থানের হার।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে যে দেশের সার্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুকির মুখে পড়েছে সেটিও প্রস্তাবিত বাজেটে স্বীকার করে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এ সংকট মোকাবিলার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বাজেটে আশংকা প্রকাশ করে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বাইরের ধাক্কা এলে তা মোকাবিলা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে আঘাতের মাত্রাকে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণ স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি: বাজেটে বলা হয়েছে দেশের ঋণ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ঝুকির সৃষ্টি হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং সেসব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করায় দেশের ঋণ স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশ বর্তমানে মধ্যম মানের ঝুকিতে রয়েছে। সরকার এ খাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে আগামীতে নিম্ন মানের ঋণ ঝুঁকিতে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছে। এ জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ: বাজেটে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হিসাবে বিবেচিত হবে। এ লক্ষ্যে সরকার থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষক কার্ড বরাদ্দ: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ক্ষমতায় এসেই কৃষক কার্ড চালু করেছে। এ খাতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ১০টি সেবা পাবেন। আগামী অর্থবছরে আরও ১০০টি উপজেলায় সাড়ে ৪২ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে। দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে এ কার্ড দেওয়া হবে।
কৃষিঋণ মওকুফে বরাদ্দ: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কৃষকদের সহায়তা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। খাদ্য পণ্যের মনিটরিং অনলাইনে: বাজেটে বলা হয়েছে খাদ্যপণ্যের বাজার দর পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হবে অনলাইনে। অচিরেই সরকার এ ব্যবস্থা চালু করবে। চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনলাইনে মনিটরিংয়ের তথ্য অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা: দেশব্যাপী সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দর, ৭টি রেলওয়ে স্টেশনসহ আন্তঃনগর ট্রেনে উচ্চগতির ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে ফাইভ জি সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বাজেটে কোন মন্ত্রণালয়ে কত বরাদ্দ: নতুন অর্থবছরের বাজেটে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ; যার পরিমাণ ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে; যার পরিমাণ ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। বাজেটে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা; স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এরপর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা; কৃষি মন্ত্রণালয়ে ২৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা; কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা; বিদ্যুৎ বিভাগে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
বাজেটের ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার: নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে জনগণের সুখ-সমৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে এবারে বাজেট প্রণয়ন করেছেন তারা। এজন্য সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
নতুন বাজেটে সরকারের ১০ অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, (১) সবার জন্য উন্নয়ন: আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সর্বশ্রেণীর, সর্বখাতের, সকল অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা। (২) সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী দক্ষতা-নির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করা। দ্বিতীয়ত, মৌলিক অধিকার হিসেবে সবার জন্য মানসম্মত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। (৩) সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা: সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সকল বয়সের, সকল স্তরের নাগরিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি মজবুত করা।
(৪) বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। (৫) বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ: বিনিয়ন্ত্রণকরণের মাধ্যমে সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা।
(৬) আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাদিহীতা প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান। (৭) জ্বালানি নিরাপত্তা: উৎপাদনশীল কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা।
(৮) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ: একটি ভবিষ্যৎমুখী, গতিশীল ও প্রকৃত অর্থে প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করা। (৯) প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে একটি সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত বিবেচনার পাশাপাশি, নদীসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচী পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে একটি টেকসই, সবুজ ও পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। (১০) স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন দক্ষ ও কার্যকর করে তোলা।
আজকালের খবর/ এমকে