চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন বারুনি ঘাট এলাকার তোহা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি থেকে জাহিদ উদ্দিন (২০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে হালিশহর থানা পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ রাজ গৌরিপুর একাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের সন্তান জাহিদ উদ্দিন দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে তোহা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। স্থানীদের দাবি, ফ্যাক্টরির দরজার তালা বাইরে থেকে খুলে ভেতরে প্রবেশ করার পর জাহিদের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলা তদন্ত কারী সাব ইন্সপেক্টর তাজ উদ্দিন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মৃত জাহিদের ভাইয়ের দাবি, ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহের পা মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি উপরে ছিলো। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সবুজ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নিহত জাহিদ একজন এতিম যুবক ছিলেন এবং তার কারও সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো বিরোধ, শত্রুতা বা আর্থিক লেনদেনজনিত সমস্যা ছিল না। ১৭ হাজার টাকায় কেনা একটি মোবাইল চুরি হয় জাহিদের থাকার রুম থেকে। যা নিয়েই পালিয়ে যাওয়া অন্য স্টাফের বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি মৃত জাহিদ।
সবুজ আরো জানান, এর আগেও চাকরি ছেড়ে দিতে চাওয়ায় দুইজন কর্মরত স্টাফের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিলো বোতল ফ্যাক্টরীর মালিক পক্ষ থেকে। জাহিদও চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো। যার কারণেও তার ক্ষিপ্ত থাকতে পারে মালিক পক্ষ এমন ধারণাও করেন তিনি সহ জাহিদের ভাই ভাবী সহ স্থানীয় কয়েকজন। যার কারণে নানান রহস্য সৃষ্টি হয়েছে এই মৃত্যুকে ঘিরে।
ফ্যাক্টরিটির পরিচালনায় মেহেদী নামে একজন কর্মরত সেনা সদস্য বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং ফ্যাক্টরির কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষ বা তার পরিবারের তৎক্ষনাৎ কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে মেহেদীর মুঠো ফোনে একাধিক কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, জাহিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সব রহস্যের অবসান ঘটাতে হবে।
একজন এতিম যুবকের মৃত্যু যেন শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেন, সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।
আজকালের খবর/বিএস