সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া কৃষি কার্ড বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন সাধারণ কৃষকরা।
আজ শনিবার সকালে ইউনিয়নের ভাটগাঁও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং পাইকুরাটি বাজারের সামনের সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় কৃষক মাসুক, আলেক মিয়া, মাসুক তালুকদার, মো. দুলাল মিয়া তালুকদার, মো. মৌলা মিয়া ও আব্দুল হাসিমসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় চরম অনিয়ম ও দলীয়করণ করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে টাকার বিনিময়ে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কৃষকরা জানান, ভাটগাঁও গ্রামে প্রায় আড়াই শত কৃষক বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তালিকায় মাত্র ৯টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেও তিনজনের হাওরে কোনো জমি নেই এবং তারা মূলত পোশাককর্মী। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষকরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, তিনি এই কৃষি কার্ডের তালিকা সম্পর্কে কিছু জানেন না। উপজেলা কৃষি অফিস, ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতারা মিলে এই তালিকা তৈরি করেছেন।
তিনি আরও জানান, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত ৩০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম থাকা প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৫০ জনের নাম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় পুরো ইউনিয়নে মাত্র ৮৫৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব