ফরিদপুরের সদরপুরে ৮ বছরের শিশুকে অ্যালোভেরার পাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা লীমা আক্তার বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজার কান্দি কোলপাড় (শেকবাড়ী) গ্রামের লীমা আক্তারের ৮ বছর বয়সী কন্যাসন্তান তার নানা-নানির সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকত। শিশুটির মা-বাবা বর্তমানে চরভদ্রাসন থানার এমপি ডাঙ্গী গ্রামে বসবাস করেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর বেলা শিশুটি অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে খেলাধুলা করার সময় পাশের বাড়ির গেন্দু প্রামানিকের ছেলে রেজাউল ওরফে রেজু প্রামানিক (৫০) এর বাড়ির উঠানে যায়। সেখানে অভিযুক্ত রেজাউল শিশুটিকে অ্যালোভেরার পাতা দেওয়ার কথা বলে ফুঁসলিয়ে নিজের বসতঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।
এ সময় খেলার সাথী অন্য শিশুরা ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বিষয়টি দেখে ফেলে। শিশুটি চিৎকার-চেঁচামেচি করলে অভিযুক্ত রেজাউল ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে তার নানীর কাছে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে এবং একপর্যায়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শিশুটির মা চরভদ্রাসন থেকে এসে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সদরপুর থানায় হাজির হয়ে লিখিত এজাহারটি দায়ের করেন।
এই বিষয়ে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, "অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অভিযুক্ত রেজাউল ওরফে রেজু প্রামানিককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস