কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে পড়ে মো. আদর দাশ (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার খোদারকুম হিন্দুপাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আদর ওই এলাকার প্রবাসী প্রদীপ দাশের ছেলে এবং চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সমবয়সী কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যায় আদর। নদীর অগভীর পানিতে খেলাধুলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই সে একটি গভীর গর্তে তলিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল ছেলেটি পানির নিচে ডুব দিচ্ছে। পরে দেখি সে আর উঠছে না। তখন আমরা কয়েকজন মিলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করি। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাতামুহুরী নদীর তলদেশজুড়ে অসংখ্য গভীর ও বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষায় এসব গর্তের ওপর পলি জমে সমান দেখা গেলেও ভেতরে ফাঁপা ও নরম থাকে, যা নদীতে নামা সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক বলেন, “নদীতে বালু তোলার কারণে অনেক জায়গায় নরম গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে পা পড়লে সহজে বের হওয়া যায় না। আদরও এমন একটি গর্তে পড়ে ডুবে গেছে।” ছেলের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ বাবা প্রদীপ দাশ বলেন, “আমি বিদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এসেছিল। ছেলেটা সবার সঙ্গে আনন্দ করে নদীতে গোসল করতে গেল, কিন্তু আর ফিরে এল না।” এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আদরের মৃত্যুতে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের মাঝে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফন/সৎকার করার জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব